নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতেই দেশের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। বোর্ড নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ‘তৃতীয় ভাষা’ (R3) পড়ানো বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, হাতে বই থাকুক বা না থাকুক, আগামী সাত দিনের মধ্যেই এই নিয়ম কার্যকর করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড।
বোর্ডের বিতর্কিত নির্দেশিকা: এক নজরে বৃহস্পতিবার CBSE-র তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে:
৭ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা: বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে সমস্ত স্কুলকে তৃতীয় ভাষা চালু করা নিশ্চিত করতে হবে।
বই ছাড়াই পঠনপাঠন: বোর্ড নিজেই স্বীকার করেছে যে পাঠ্যবই এখনও বাজারে আসেনি। তবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হাতের কাছে যা বই বা উপকরণ পাওয়া যায়, তা দিয়েই ষষ্ঠ শ্রেণিতে এখনই ক্লাস শুরু করে দিতে হবে।
ভবিষ্যতের নির্বাচন: ষষ্ঠ শ্রেণিতে যে ভাষাটি পড়ানো হবে, পরবর্তীতে নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়ারা কেবল সেই ভাষাগুলোই বিষয় হিসেবে বেছে নিতে পারবে।
নজরদারিতে ‘ওয়েসিস’ পোর্টাল: বোর্ড সাফ জানিয়েছে, স্কুলগুলি কোন ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বেছে নিচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানাতে হবে এবং OASIS পোর্টালে তথ্য আপলোড করতে হবে। রিজিওনাল অফিসগুলি এই গোটা বিষয়টি কড়া নজরদারিতে রাখবে।
তিন ভাষার ফর্মুলা (Three-Language Formula) কী? কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) অনুযায়ী এই কাঠামো সাজানো হয়েছে: ১. R1: আঞ্চলিক বা মাতৃভাষা। ২. R2: অন্য কোনও ভারতীয় ভাষা বা ইংরেজি। ৩. R3: অতিরিক্ত একটি ভারতীয় ভাষা।
বিতর্ক ও সংশয়: বোর্ডের এই ‘তাড়াহুড়ো’ ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। একদিকে যেমন আঞ্চলিক ভাষার নামে ‘হিন্দি’ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে, তেমনই পড়ুয়াদের ওপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। অনেক স্কুলেরই দাবি, মাত্র সাত দিনের মধ্যে নতুন ভাষার যোগ্য শিক্ষক পাওয়া কার্যত অসম্ভব।





