বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা পুরনো পিএফ (PF) অ্যাকাউন্টের টাকা উদ্ধার করা এখন আর কোনো মাথাব্যথার কারণ হবে না। সারা দেশে কয়েক হাজার কোটি টাকা দাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় নড়েচড়ে বসেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। এবার কোনো দাবি ছাড়াই সরাসরি গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার এক বিশেষ ‘পাইলট প্রজেক্ট’ শুরু করল তারা।
অটো-ট্রান্সফার প্ল্যানটি আসলে কী? চাকরি পরিবর্তনের পর অনেকেই পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করতে ভুলে যান। ফলে অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় বা ‘ডরম্যান্ট’ হয়ে পড়ে থাকে। বর্তমানে এমন প্রায় ৮.১ লক্ষ অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে জমা রয়েছে প্রায় ৫,২০০ কোটি টাকা।
স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি: নতুন সিস্টেমে গ্রাহককে কোনো ফর্ম পূরণ করতে হবে না বা অফিসে চক্কর কাটতে হবে না।
স্মার্ট প্রযুক্তি: আধারের মাধ্যমে পুরনো অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সরাসরি লিংকড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
আবেদন ছাড়াই টাকা পাওয়ার শর্তাবলি: এই সুবিধা ভোগ করতে গেলে আপনার অ্যাকাউন্টে তিনটি বিষয় ঠিক থাকতে হবে: ১. আধার লিংক: পিএফ অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই আধার কার্ডের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। ২. KYC আপডেট: আপনার কেওয়াইসি (KYC) তথ্য সম্পূর্ণ নির্ভুল হতে হবে। ৩. ব্যাংক যাচাই: ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং আধার ডেটা যেন একে অপরের সাথে মিলে যায়।
আগে এই সুবিধা কেবল ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্সের জন্য ছিল, তবে এখন বড় অঙ্কের টাকার ক্ষেত্রেও এটি প্রসারিত করা হচ্ছে।
টাকা কেন আটকে থাকে? কর্পোরেট দুনিয়ায় চাকরি বদলানো খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু তাড়াহুড়োয় পুরনো কোম্পানির পিএফ ইউএএন (UAN) নম্বর স্থানান্তর করা হয় না। পরবর্তীকালে পুরনো কোম্পানির তথ্য মনে না থাকায় বা একাধিক পিএফ অ্যাকাউন্ট হয়ে যাওয়ায় টাকাগুলো পড়ে থাকে।
সতর্কতা: এই ভুলগুলো করবেন না সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় হলেও নাম বা জন্মতারিখের ছোটখাটো ভুল (আধার বনাম পিএফ রেকর্ড) থাকলে টাকা আটকে যেতে পারে। এছাড়া একাধিক ইউএএন সক্রিয় থাকা বা পুরনো কোম্পানিতে প্রস্থানের তারিখ (Date of Exit) উল্লেখ না থাকলেও এই সুবিধা পাওয়া কঠিন হতে পারে।





