মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি টুইটেই কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব। ইরানের সভ্যতা ‘আজ রাতেই ধ্বংস হবে’—এমন চরম হুমকির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল ট্রাম্পের। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের দেওয়া ‘দশ দফা পরিকল্পনা’কে কার্যকর ভিত্তি হিসেবে মেনে নিয়ে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটল হোয়াইট হাউস। কিন্তু এই স্বস্তি কি দীর্ঘস্থায়ী হবে?
এক নজরে যুদ্ধবিরতির বর্তমান পরিস্থিতি: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধের পর এই বিরতি বেসামরিক মানুষের জন্য বড় পাওনা। তবে এই খতিয়ানে নেই লেবানন। ইজরায়েলের দাবি, যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে সেখানে এখনও চলছে প্রাণঘাতী বিমান হামলা।
দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি: জয় কার? অদ্ভুতভাবে, এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবে দাবি করছে দুই পক্ষই:
আমেরিকা: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ‘ঐতিহাসিক ও অপ্রতিরোধ্য সামরিক বিজয়’। তাঁর দাবি, ইরান নিজের ভূখণ্ড রক্ষায় ব্যর্থ হয়েই নতি স্বীকার করেছে।
ইরান: অন্যদিকে তেহরানের দাবি, মার্কিন ও ইজরায়েলি শক্তির বিরুদ্ধে তাঁদের ‘প্রতিরোধ’ আমেরিকাকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের ভাষায়, “বিশ্বে এখন ইরানের যুগ শুরু হয়েছে।”
ভবিষ্যৎ যেখানে ঝুলে আছে: ২ সপ্তাহের সময়সীমা এই সমঝোতাকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ‘ভঙ্গুর’ বলে বর্ণনা করেছেন। হাতে সময় মাত্র দুই সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে।
ইরানের সেই কঠিন ১০ দফা শর্ত: ইরান এমন কিছু দাবি টেবিলে রেখেছে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন: ১. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক শাসনের পূর্ণ স্বীকৃতি। ২. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিপুল ক্ষতিপূরণ। ৩. ইরানের ওপর থেকে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। ৪. বিদেশের ব্যাঙ্কে জব্দ থাকা ইরানের যাবতীয় সম্পদ মুক্তি।





