আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ছাত্রীকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় এবার নতুন মোড়। মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় ছাড়াও এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিবিআই-কে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, প্রয়োজনে যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
“একা একজনের পক্ষে সম্ভব নয়” এদিন শুনানির সময় আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন নিউজ রিপোর্ট ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিচারপতি মান্থা বলেন,
“আমাদেরও মনে হয় কোনও একজনের পক্ষে এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় অনেক কিছুই জানেন। তাঁকে ফের জেরা করতে যেন কোনও দ্বিধা না করে সিবিআই।”
নির্যাতিতার পরিবারের দাবি ও নয়া হলফনামা শুরু থেকেই নির্যাতিতার মা-বাবা দাবি করে আসছিলেন যে, সঞ্জয় কেবল দাবার বোড়ে মাত্র, এর পেছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। এদিন তাঁদের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে দুটি সাপ্লিমেন্টারি হলফনামা জমা দেন। প্রখ্যাত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অজয় কুমার গুপ্তার মতামতের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখলে এই খুনের নেপথ্যে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতির সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আদালতের আগামী পদক্ষেপ উল্লেখ্য, শিয়ালদহ আদালত ইতিপূর্বে সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাবাসের সাজা শুনিয়েছে। তবে সিবিআই তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে এবং সঞ্জয় নিজে খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছে। আদালত জানিয়েছে:
সঞ্জয় রায়ের সাজা এবং সিবিআই-এর আরজি— দুটির শুনানিই একসঙ্গে হবে।
নির্যাতিতার পরিবারের নতুন তদন্তের আবেদনের ওপর বিস্তারিত শুনানি প্রয়োজন।
আগামী ১২ মে সিবিআই-কে তাদের রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
২০২৩ সালের ৯ আগস্ট আরজি করের সেই অভিশপ্ত রাতের রহস্য উন্মোচনে হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান আবারও মানুষের মনে ন্যায়ের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। ১২ মে পরবর্তী শুনানিতে সিবিআই কী রিপোর্ট দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।





