তারেক রহমানের বড় চাল! আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধই রাখল বিএনপি, নেপথ্যে কি অন্য কোনো সমীকরণ?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত অধ্যায় সূচিত হলো। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের অধ্যাদেশকে এবার পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ দিল নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাশের মাধ্যমে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলো।

বিলের মূল বক্তব্য: পাস হওয়া এই বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে তাকে নিষিদ্ধ করতে পারবে। শুধু তাই নয়, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে কোনো মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালানোও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানান, আওয়ামী লীগ একটি ‘গণ হত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠন’। গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় সৃষ্ট জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এখনও রক্তের দাগ শুকায়নি। আওয়ামী লীগকে এখন রাজনীতি করতে দেওয়া মানে সব নিষ্ঠুর স্বৈরশাসককে সম্মানিত করা।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে ৪টি বড় কারণ:

  • জনমত ও ক্ষোভ: আওয়ামী লীগ বিরোধী তীব্র জনমতকে বিএনপি সরকার নিজেদের পক্ষে রাখতে চায়।

  • নির্বাচনী অঙ্ক: সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেলে তা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

  • জোটের চাপ: জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাও বিএনপির একটি লক্ষ্য।

  • নিষ্কণ্টক রাজনীতি: আওয়ামী লীগ মাঠের বাইরে থাকলে সংসদে বা রাজপথে শক্তিশালী কোনো বিরোধী পক্ষ থাকছে না, যা বিএনপির জন্য সুবিধাজনক।

কী বলছেন বিশ্লেষকরা? সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, “বিএনপি সরকার প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অন্য দল নিষিদ্ধের পথ প্রশস্ত করল।” অন্যদিকে, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত একটি দলের বিষয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী? বিলটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কার্যত আইনিভাবে ‘অন্ধকারে’ চলে যাবে। নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন আগেই স্থগিত হওয়ায় তারা গত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। আপাতত দেশের মাটিতে ‘নৌকা’ প্রতীকের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকছে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy