২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ডঙ্কা বেজে গিয়েছে। শহর থেকে গ্রাম—সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, চতুর্থবারের জন্য নবান্নে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ফিরছেন, নাকি পরিবর্তন হবে? জনমতের এই পারদ মাপতে সি-ভোটার (C-VOTER) ও CNN-News 18-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে।
তৃণমূলের পাল্লাই কি ভারী? সমীক্ষা বলছে, ভোটের লড়াই এবার সমানে সমানে হলেও কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। VoteVibe-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপির আসন সংখ্যা ৯৮ থেকে ১০৮-এর মধ্যে থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জনপ্রিয়তায় কে কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কে সেরা পছন্দ? এই দৌড়ে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
৪৮.৫% মানুষ মমতায় আস্থা রেখেছেন।
৩৩.৪% মানুষের সমর্থন পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
ভোট শতাংশের হিসেবে তৃণমূল ৪৪% এবং বিজেপি ৪০% পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্লাস পয়েন্ট ও কাঁটা: তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তবে বেকারত্ব (৩৭.২%) এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও আরজি কর-কাণ্ডের (১৫.৯%) মতো বিষয়গুলো শাসকদলের বিরুদ্ধে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে দলীয় কোন্দল ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব (১৯.৯%) এবং রাজ্যে শক্তিশালী নেতার অভাব (১৭.২%)।
জনমতের টুকরো চিত্র:
মুসলিম ভোটার: ৪৪.২% মানুষ তৃণমূলের কাজকে ‘খুব ভালো’ বলেছেন।
উচ্চবর্ণ ও তফসিলি ভোটার: এই অংশের একটি বড় অংশ (২৬.৬%) সরকারের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মূল সমস্যা: বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতিই ভোটারদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ।
উপসংহার: ২০২১-এর ফলাফল ছাপিয়ে তৃণমূল এবারও ম্যাজিক ফিগার অনায়াসে ছুঁয়ে ফেলবে বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিললেও, বিজেপি যেভাবে জমি কামড়ে পড়ে আছে তাতে লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে। চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের দিন।





