যুদ্ধবিরতির মাঝেই ট্রাম্পের ‘শুল্ক-বোমা’! ইরানকে মদত দিলে ধ্বংস হবে অর্থনীতি, কড়া বার্তা হোয়াইট হাউসের!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা চরম উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড়! দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সাফ কথা—কোনো দেশ যদি ইরানকে সামরিক সাহায্য বা অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে সেই দেশকে আমেরিকার বাজারে পণ্য বিক্রির জন্য ৫০ শতাংশ শুল্ক (Tariff) গুনতে হবে।

ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্ট ঘিরে তোলপাড়: বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “যদি কোনো দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে আমেরিকার কাছে বিক্রি করা তাদের সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ৫০% শুল্ক চাপানো হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা ব্যতিক্রম থাকবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোকে কড়া সংকেত দিলেন।

যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালী: ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এই চুক্তির ফলে:

  • ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ অবিলম্বে খুলে দিতে রাজি হয়েছে।

  • বিনিময়ে আমেরিকা আগামী দুই সপ্তাহ ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালাবে না।

  • ট্রাম্পের দাবি, ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না এবং মাটির নিচে থাকা পারমাণবিক উপাদান সরাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

বিজয় দাবি ট্রাম্পের: এই যুদ্ধবিরতিকে নিজের ‘চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে একটি অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটেছে। তবে ইরানও তাদের দাবিতে অনড়। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে খুললেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের অধিকার এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবিতে অনড় থাকবে।

পরবর্তী লক্ষ্য ইসলামাবাদ: আগামী শুক্রবার থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। সেখানে কি কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে, নাকি ১৫ দিনের মেয়াদ ফুরালেই ফের যুদ্ধের দামামা বাজবে—সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy