রাত পোহালেই অসম বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ ভোটগ্রহণ। আর তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ‘গরুর মাংস’ খাওয়া নিয়ে নিজের অবস্থান ফের স্পষ্ট করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নিষিদ্ধ করা নয়, বরং ব্যক্তিগত পরিসরে এই খাদ্যাভ্যাসকে সীমাবদ্ধ রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর নয়া দাওয়াই: সাংবাদিকদের সামনে হিমন্ত সাফ জানান, “অসমে বড় মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে যারা গরুর মাংস খান। আমি এটা বন্ধ করছি না। আমি শুধু বলছি, এটা নিজের বাড়ির ভেতরে খান। জনসমক্ষে বা রেস্তোরাঁয় খাবেন না।” তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনও মন্দির বা বৈষ্ণব মঠের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গরুর মাংস বিক্রি বা খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কুঙ্কি চৌধুরী ইস্যু ও আইনি হুঁশিয়ারি: নির্বাচনী উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে অসম জাতীয় পরিষদের (AJP) প্রার্থী কুঙ্কি চৌধুরীর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা একটি অভিযোগ। কুঙ্কির বাবা-মা গরুর মাংস খেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়েছেন— এই অভিযোগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “নির্বাচন মিটলেই গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ওই প্রার্থীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।” যদিও কুঙ্কি চৌধুরী এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘ডিপফেক ভিডিও’-র কারসাজি বলে দাবি করেছেন।
লক্ষ্য হিন্দু ভোটাররা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্তের এই মন্তব্য শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য নয়, বরং হিন্দুদের সংবেদনশীলতাকে উসকে দিতেই করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, কিছু মানুষ এখন গরুর মাংসের বদলে মহিষের মাংস খাচ্ছেন এবং তাঁর এই আবেদন আসলে হিন্দুদের প্রতিই বেশি। ১২৬ আসনের অসম বিধানসভার ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার, আর তার আগে হিমন্তের এই ‘বিফ কার্ড’ ইভিএম-এ কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





