গত ২৯ মার্চ তালসারির সমুদ্র সৈকতে শ্যুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বাংলা বিনোদন জগৎকে। শ্যুটিং স্পটে অভিনেতা ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জেরে মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেন রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা।
টলিপাড়ার ‘কঠিন’ সিদ্ধান্ত: মঙ্গলবার দিনভর বৈঠকের পর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’ বা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কোনও কাজে অংশ নেবেন না কোনও শিল্পী বা টেকনিশিয়ান। ফলে ‘চিরসখা’ এবং অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। ইতিমধ্যেই খবর, আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে ‘চিরসখা’-র স্লটে শুরু হচ্ছে নতুন মেগা ‘সংসার সংকীর্তন’।
বন্ধ হচ্ছে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’: যে ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে রাহুলের মৃত্যু হয়েছিল, সেই ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের তীব্র ক্ষোভ এবং অভিনেতাদের প্রতিবাদের মুখে এই ধারাবাহিক চালানো ‘অমানবিক’ বলে মনে করছেন অনেকেই।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য: তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাহুলের ফুসফুসে অস্বাভাবিক পরিমাণ বালি পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত এক ঘণ্টা জলের তলায় ডুবে না থাকলে ফুসফুসে এত বালি ঢোকা সম্ভব নয়। এই তথ্য সামনে আসতেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতির অভিযোগে আর্টিস্ট ফোরাম ও রাহুলের প্রাক্তন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন।
জাতীয় স্তরেও কি কোপ পড়বে? আর্টিস্ট ফোরামের তরফে সর্বভারতীয় স্তরেও আবেদন করা হয়েছে যাতে লীনা-শৈবালদের সংস্থার সঙ্গে কেউ কাজ না করেন। এর ফলে ‘অনুপমা’ বা ‘ঝনক’-এর মতো জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিকগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ‘এসওপি’ (SOP) এবং বিমা চালুর দাবিও তোলা হয়েছে।





