অবশেষে সব জল্পনার অবসান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিজেদের ষষ্ঠ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি। আর এই তালিকায় সবথেকে বড় চমক কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্র। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে বিজেপি ময়দানে নামাল বিতর্কিত কিন্তু দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা রাকেশ সিং-কে।
আদালতের রায়ে কাটল বাধা: রাকেশ সিংয়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল তুঙ্গে। গত অক্টোবর থেকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে জেলবন্দি ছিলেন তিনি। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতা হাইকোর্টে বড় স্বস্তি পান এই বিজেপি নেতা। বিচারপতি কৌশিক চন্দ শুধুমাত্র বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যই রাকেশ সিং-কে অন্তর্বর্তী জামিন দেন। ১ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মেলায় নির্বাচনী ময়দানে নামার ক্ষেত্রে তাঁর সামনে আর কোনও আইনি বাধা ছিল না।
শর্তসাপেক্ষ প্রচার: আদালত রাকেশ সিং-কে জামিন দিলেও বেঁধে দিয়েছে একগুচ্ছ কড়া শর্ত। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী:
রাকেশ সিং-কে শুধুমাত্র কলকাতা বন্দর বিধানসভা এলাকার মধ্যেই থাকতে হবে।
মনোনয়ন জমা দেওয়া বা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাতের মতো জরুরি কাজ ছাড়া তিনি এলাকা ছেড়ে বেরোতে পারবেন না।
ভোটগণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে নিজের এলাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবেন তিনি।
প্রচারের সময় নির্বাচন কমিশনের সমস্ত গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
কেন এই হাই-ভোল্টেজ লড়াই? কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে গত কয়েক বছর ধরেই ফিরহাদ হাকিমের একচ্ছত্র আধিপত্য। অন্যদিকে, রাকেশ সিংয়ের জামিন পাওয়ার পরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, গেরুয়া শিবির এবার হারানো জমি উদ্ধারে কোনও ‘লড়াকু’ মুখকে সামনে আনবে। রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে এর আগে মৌলালিতে কংগ্রেস দফতরে ভাঙচুর এবং বাড়ি দখলের মতো একাধিক অভিযোগ থাকলেও, তাঁর জামিন পাওয়াই বিজেপির কৌশলকে সফল করল। ৪ মে ভোটগণনার দিনই স্পষ্ট হবে, আদালতের এই অন্তর্বর্তী ‘স্বাধীনতা’ রাকেশকে বন্দরের বৈতরণী পার করতে সাহায্য করে কি না।





