ভারতের জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে যানজট কমাতে এবং টোল আদায় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে দেশের ১,১৫০টিরও বেশি টোল প্লাজায় নগদ অর্থ লেনদেন (Cash Payment) পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
ফাস্টট্যাগ না থাকলে কি হবে?
যদি আপনার গাড়িতে বৈধ ফাস্টট্যাগ (FASTag) না থাকে, তবে বিকল্প হিসেবে আপনি UPI (PhonePe, Google Pay ইত্যাদি) ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন। কিন্তু সেখানে রয়েছে একটি বড় ধাক্কা।
২৫% অতিরিক্ত চার্জ: ফাস্টট্যাগ ছাড়া ইউপিআই-তে পেমেন্ট করলে সাধারণ টোল ফি-র তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি টাকা দিতে হবে।
দ্বিগুণ জরিমানা: যদি তিন দিনের মধ্যে টোল বকেয়া থাকে, তবে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে এবং চালকের নামে ই-নোটিশ জারি হতে পারে।
বন্ধ হচ্ছে পরিচয়পত্রের দাপট
এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি পরিচয়পত্র দেখিয়ে টোল না দিয়ে পার হওয়ার প্রবণতা ছিল। ১০ এপ্রিল থেকে সেই সুবিধাও বন্ধ হচ্ছে। এখন থেকে শুধুমাত্র সরকারিভাবে নথিভুক্ত ‘এক্সেম্পট ফাস্ট্যাগ’ (Exempt FASTag) যুক্ত গাড়িগুলোই বিনামূল্যে পার হতে পারবে। ব্যক্তিগত কাজে নিজের গাড়ি ব্যবহার করলে কোনো পরিচয়পত্রই আর টোল মকুবের ঢাল হবে না।
সস্তার বিকল্প: বার্ষিক পাস
নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য NHAI নিয়ে এসেছে FASTag বার্ষিক পাস। মাত্র ৩০০০ টাকা খরচ করে বছরে ২০০ বার পর্যন্ত টোল পার হওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষ গ্রাহক এই পাসের সুবিধা নিচ্ছেন।
কেন এই কড়াকড়ি?
কর্তৃপক্ষের মতে, টোল প্লাজাগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং কর্মীদের সঙ্গে চালকদের বচসা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। ডিজিটাল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক হলে সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনে হাইওয়েতে ট্রাফিক জ্যাম অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এডিটরস টিপস: ১০ তারিখের আগে আপনার ফাস্টট্যাগটি রিচার্জ করে নিন এবং ব্যালেন্স চেক করুন। যদি এখনও ফাস্টট্যাগ না লাগিয়ে থাকেন, তবে আজই তা সংগ্রহ করুন; নচেৎ হাইওয়েতে যাতায়াত আপনার জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।





