লোকসভা নির্বাচনের আবহে অসমের মাটি থেকে বিরোধী শিবিরকে কার্যত ধুয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার কাছাড়ের জনসভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তাঁর আক্রমণাত্মক মেজাজ মনে করিয়ে দিচ্ছে সিএএ (CAA) এবং এনআরসি (NRC) বিতর্কের সেই পুরনো উত্তাপ। এবার তাঁর সরাসরি নিশানায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
“পেটে ব্যথা হচ্ছে কেন?”
ভোটার তালিকা সংশোধনী এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে শাহের মন্তব্য ছিল যথেষ্ট শ্লেষাত্মক। তিনি বলেন:
“আমরা ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম কেটে দিচ্ছি। এতে মমতা দিদি আর রাহুল বাবার পেটে ব্যথা হচ্ছে। রাহুল বাবু, আপনি তো সিএএ-র বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু এখন কেন অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানাচ্ছেন? কারণ তারা আপনাদের ভোটব্যাঙ্ক!”
মমতা ও রাহুলকে কড়া বার্তা
অমিত শাহ এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্র কোনো আপস করবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “মমতা দিদি কাঁদুন আর রাহুল বাবু বুক চাপড়ান, তাতে কিছু যায় আসে না। বিজেপি বেছে বেছে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে এই দেশ থেকে বের করে দেবে।”
উদ্বাস্তু বনাম অনুপ্রবেশকারী বিতর্ক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন ফের একবার উদ্বাস্তু এবং অনুপ্রবেশকারীর পার্থক্য স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী একসময় বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তু ভাইবোনদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন, অথচ আজ ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের হয়ে সওয়াল করছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অসমের এই জনসভা থেকে অমিত শাহের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া আগামী দিনে ২০২৬-এর জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যকে ‘বিভাজনমূলক’ বলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।





