“প্রতি বাড়িতে ৩ বার হানা!”-ভবানীপুর জয়ের লক্ষ্যে মমতার “প্ল্যান” কি? জেনেনিন এক নজরে

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র এখন ভবানীপুর। একদিকে ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে হেভিওয়েট শুভেন্দু অধিকারী। এই ‘মিনি ইন্ডিয়া’র মন জয় করতে এবার এক অভিনব ও নিবিড় জনসংযোগের রণকৌশল নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। লক্ষ্য একটাই— প্রতিটি সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পৌঁছে জনভিত্তি নিশ্ছিদ্র করা।

রণকৌশল: প্রতি ঘরে তিনবার হানা

দলীয় সূত্রে খবর, ভবানীপুরের প্রতিটি বাড়িতে অন্তত তিনবার করে পৌঁছনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। বড় জনসভা বা রোড শো-র চেয়েও এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘ঘনিষ্ঠ’ বা ব্যক্তিগত যোগাযোগে। গুজরাতি, মারোয়াড়ি, শিখ, বিহারি ও বাঙালি— এই পাঁচ প্রধান সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই আলিপুরের অ্যাগ্রি হর্টিকালচারাল সোসাইটিতে শিল্পপতিদের সঙ্গে এক প্রস্ত আলোচনা সেরে ফেলেছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

মনোনয়ন ঘিরে হাজরা মোড়ে মেগা শো

খুব শীঘ্রই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দিনটিকে উৎসবে পরিণত করতে চাইছে তৃণমূল।

  • পরিকল্পনা: সকাল থেকেই হাজরা মোড়ে দলের হাজার হাজার কর্মীকে জমায়েত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • মিছিল: হাজরা থেকে বিশাল মিছিল করে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেবেন নেত্রী।

শুভেন্দু-অমিত শাহ জুটিকে টক্কর

ভবানীপুরে লড়াই এবার ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের দিন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পালটা জবাবে তৃণমূলও তাদের প্রচারের পারদ চড়াতে শুরু করেছে। ফিরহাদ হাকিম নিজের মেয়ে প্রিয়দর্শিনীকে নিয়ে ইতিমধ্য়েই অলিগলি চষে ফেলছেন।

কেন ভবানীপুর ‘মিনি ইন্ডিয়া’?

ভবানীপুর কেন্দ্রে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান। তাই কেবল বাঙালির আবেগ নয়, অ-বাঙালি ব্যবসায়িক সম্প্রদায় ও অনান্য ভাষাভাষী মানুষের সমর্থন আদায় করা তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই শিল্প ও উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তাঁদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে ঘাসফুল শিবির।

ভোট যত এগিয়ে আসবে, ঘরোয়া বৈঠকের গণ্ডি পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই রাস্তায় নেমে বড় জনসভা ও রোড শো করবেন বলে জানা গিয়েছে। এখন দেখার, এই ‘ব্যক্তিগত স্পর্শ’ বনাম ‘হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় উপস্থিতি’র লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy