সোমবার মধ্যরাতে ১২তম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ইতি টানল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইন মেনে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেল। শীর্ষ আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এবারের নির্বাচনের জন্য এই তালিকাই ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়েছে।
একনজরে বাদ পড়া ভোটারের পরিসংখ্যান
বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য যাচাই করে ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’ বিচার করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের নির্ধারিত বিচারকেরা। পরিসংখ্যান বলছে:
মোট বিবেচনাধীন ভোটার: ৬০,০৬,৬৭৫ জন।
সদ্য বাদ পড়েছেন: ২৭,১৬,৩৯৩ জন।
ফেব্রুয়ারিতে বাদ গিয়েছিলেন: ৬৩,৬৬,৯৫২ জন।
সর্বমোট বাদ পড়া (DELETED): ৯০,৮৩,৩৪৫ জন।
কেন ‘ফ্রিজ’ হলো তালিকা?
নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনই ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যায়। সোমবারই ছিল সেই দিন। ৩০ মার্চের পর যারা নতুন নাম তোলার আবেদন (ফর্ম ৬) করেছেন, এবারের ভোটে তাঁদের নাম থাকার সুযোগ নেই। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া ভোটাররা সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত তালিকায় ঢোকার সুযোগ পেয়েছেন।
যাঁদের নাম বাদ গেল, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী?
তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হতেই সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: “কারও নাম এই তালিকায় নেই মানেই তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না।”
যাঁদের নাম বিচারকেরা বাতিল করেছেন, তাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারছেন। ইতিমধ্যে বেশ কিছু আবেদনকারী ট্রাইব্যুনাল থেকে ভোট দেওয়ার ছাড়পত্রও পেয়েছেন।
মঙ্গলবার থেকে আবেদন করলে কি ভোট দেওয়া যাবে?
এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নিয়ম বলছে, তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পর আর নতুন নাম ঢোকা সম্ভব নয়। অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে ট্রাইব্যুনাল যাঁদের ‘যোগ্য’ ঘোষণা করবে, তাঁরা হয়তো এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। তবে সবটাই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির ওপর। আদালত বিশেষ কোনও নির্দেশ দিলে তবেই এই সমীকরণ বদলাতে পারে।





