মানবিকতা ও রক্তের সম্পর্কের সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেল বিহারের পাটনার এক নৃশংস ঘটনা। মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে নিজের কাকা এবং তাঁর দুই বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়, ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় মানুষ।
ঘুমন্ত শিশুকে তুলে নিয়ে গেল কাকা নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে শিশুটি যখন অঘোরে ঘুমোচ্ছিল, তখনই তার মাদকাসক্ত কাকা ও দুই বন্ধু মিলে তাকে তুলে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে শিশুটির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধার গভীর রাতে মাঠের মধ্যে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন এটি কোনও শিশু পাচারকারীর কাজ। জনতাকে আসতে দেখে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি পাটনার একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নড়েচড়ে বসেছে পাটনা পুলিশ। অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত কাকা এবং তার এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য এক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অতীতের সেই স্মৃতি এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে গত বছরের মধ্যপ্রদেশের মোরেনার এক ভয়াবহ স্মৃতিকে। সেখানেও এক মত্ত জ্যেঠুর লালসার শিকার হয়েছিল মাত্র তিন মাসের এক শিশুকন্যা। বারবার এ ধরনের নারকীয় ঘটনা সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। পশুর চেয়েও অধম এই অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় শিশুটির পরিবার।





