ফ্লিপকার্টকে বিশ্বাস করাই ভুল? ৩০-৪০ হাজার টাকার লোকসান সামলে সিইও কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তিকে বেনজির আক্রমণ ব্যবসায়ীর

ই-কমার্স জায়ান্ট ফ্লিপকার্ট (Flipkart) এবং তাদের লজিস্টিক শাখা ইকার্ট (Ekart)-এর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন এক ব্যবসায়ী। সরাসরি সিইও কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তিকে বিঁধে পারভেজ দোসানি নামের ওই উদ্যোক্তা তাঁকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে অযোগ্য সিইও’ বলে অভিহিত করেছেন। লিঙ্কডইন (LinkedIn)-এ করা তাঁর এই পোস্টটি ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

কী সেই অভিযোগ?

একটি ডি২সি (Direct-to-Consumer) সংস্থার কর্ণধার পারভেজ দোসানি তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, ইকার্টের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে গিয়ে তাঁরা কার্যত ‘সংগঠিত চুরির’ শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি হলো:

  • খালি প্যাকেট ডেলিভারি: গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো পার্সেলের ভেতর থেকে পণ্য গায়েব করে দেওয়া হয়েছে অথবা সম্পূর্ণ খালি ব্যাগ পাঠানো হয়েছে।

  • ডেলিভারি জালিয়াতি: সফলভাবে পৌঁছে যাওয়া অর্ডারগুলোকে কৌশলে ‘NDR’ (ডেলিভারি অসাধ্য) বা ‘RTO’ (ফেরত পাঠানো হয়েছে) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

  • বিপুল লোকসান: এই অব্যবস্থাপনা ও চুরির কারণে তাঁদের প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকার পণ্য খোয়া গেছে, যার কোনো দায়ভার ইকার্ট নেয়নি।

সিইও-কে নজিরবিহীন আক্রমণ

ব্যবসায়ী পারভেজ দোসানি ফ্লিপকার্টের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে লিখেছেন:

“মিস্টার কৃষ্ণমূর্তি, আপনি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যখন আপনার প্রতিষ্ঠানের মূল শাখাতেই এত বড় জালিয়াতি চলে, তখন প্রশ্ন ওঠে আপনাদের ম্যানেজমেন্ট আদৌ নজর দিচ্ছে কি না।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, ফ্লিপকার্টের নামের ওপর ভরসা করাই ছিল তাঁদের বড় ভুল। অন্যান্য স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি তাঁর অনুরোধ, তাঁরা যেন ফ্লিপকার্ট বা ইকার্টের এই ‘মুখোশ’ দেখে বিভ্রান্ত না হন।

ইকার্ট নিয়ে ক্ষোভ

দোসানি দাবি করেছেন, এটি কেবল তাঁর একার অভিজ্ঞতা নয়। আরও অনেক বিক্রেতা ইকার্টকে ‘প্রতারক’ কুরিয়ার সার্ভিস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ফ্লিপকার্ট গ্রুপের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই লজিস্টিক নেটওয়ার্কটি আসলে ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের পদ্ধতিগতভাবে প্রতারিত করার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এমনকি ইকার্টের কর্মীদের উদ্দেশেও তিনি চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ফ্লিপকার্টের প্রতিক্রিয়া?

এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর এখনও পর্যন্ত ফ্লিপকার্ট বা কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে লজিস্টিক সেক্টরে এই ধরণের অভিযোগ ই-কমার্স ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy