পর্যটক সেজে এসে উত্তর-পূর্বে নাশকতার ছক? মায়ানমার যোগে এনআইএ জালে ৭ বিদেশি; ঘাম ছুটছে গোয়েন্দাদের!

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় বড়সড় বিদেশি ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। সোমবার এনআইএ আদালতের নির্দেশে ৬ জন ইউক্রেনীয় এবং ১ জন আমেরিকান নাগরিককে ৩০ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পর্যটক সেজে ভারতে ঢুকে মায়ানমারের বিদ্রোহীদের ‘ড্রোন যুদ্ধের’ প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
ইউক্রেনীয় ও মার্কিন ‘ভেটেরান’ যোগ
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক নামক এক মার্কিন প্রাক্তনী (Veteran), যিনি এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ৬ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক। এঁরা সকলেই বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে এলেও, মিজোরামের সুরক্ষিত এলাকায় (Restricted Area) বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করেন।
ঠিক কী ছক ছিল এই বিদেশি গোষ্ঠীর?
এনআইএ-র চার্জশিট অনুযায়ী, এই সাত বিদেশি নাগরিকের অপকর্মের তালিকা দীর্ঘ:
অবৈধ অনুপ্রবেশ: মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে মায়ানমারে যাতায়াত এবং সেখানকার জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন।
ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ: আধুনিক যুদ্ধকৌশল এবং ড্রোন চালনায় মায়ানমারের বিদ্রোহীদের দড় করে তোলা।
অস্ত্র ও ড্রোন পাচার: ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের চালান ভারত হয়ে মায়ানমারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
ভারতের জন্য কেন এটি বড় বিপদ?
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মায়ানমারের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর গভীর যোগসূত্র রয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এই বিদেশিদের আনা ড্রোন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র ভারতীয় বিদ্রোহীদের হাতে পৌঁছে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। ভারতকে স্রেফ একটি ‘ট্রানজিট রুট’ হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরির এই চেষ্টা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
নেটওয়ার্কের সন্ধানে গোয়েন্দারা
মিজোরাম ও মণিপুর সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই বিদেশিরা কীভাবে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদের পিছনে কোন আন্তর্জাতিক শক্তির অর্থায়ন রয়েছে এবং ভারতের ভেতর থেকে কেউ তাঁদের সাহায্য করছিল কি না, তা খুঁজে বের করতে মরিয়া এনআইএ।
এডিটরস নোট: পর্যটক ভিসার আড়ালে বিদেশি নাগরিকদের এমন বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তৎপরতায় এই মুহূর্তে পুরো চক্রটিকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।