২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তিলোত্তমার রাজপথে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার উত্তর কলকাতার চারটি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে ক্লাইভ রো-তে এক বিশাল পথসভা থেকে তিনি দাবি করেন, এবার কেবল বিধানসভাই নয়, আগামী ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভাও দখল করবে বিজেপি।
উত্তর কলকাতায় মেগা শো: এদিন চৌরঙ্গীর সন্তোষ পাঠক, এন্টালির প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, কাশীপুর-বেলগাছিয়ার রীতেশ তিওয়ারি এবং বেলেঘাটার পার্থ চৌধুরীর সমর্থনে বিশাল মিছিল করেন শুভেন্দু। কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলেন:
“মানুষের যা উন্মাদনা দেখছি, তাতে উত্তর কলকাতার সব কটি আসনেই বিজেপি জিতবে। পরিবর্তন এবার অনিবার্য।”
মমতাকে নিশানা ও ‘টার্গেট’ ডিসেম্বর: শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, ২০২১-এ তিনি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। এবার তাঁর দাবি, ভবানীপুরেও হারবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এবার বিধানসভায় আমরা একসঙ্গে বসব। আর এই ৪ মে বিধানসভা জেতার পর ডিসেম্বরেই পুরসভা জিতবে বিজেপি।” দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার ডাক দিয়ে তিনি তৃণমূলকে ‘বিসর্জন’ দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুপ্রবেশ ও উন্নয়ন ইস্যু: বক্তব্যের মাঝেই সুর চড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, বিজেপির লড়াই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে, কোনও রাষ্ট্রবাদী মুসলিমের বিরুদ্ধে নয়। রামনবমীর মিছিলে পাথর ছোড়া এবং মা দুর্গার মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। রাজ্যে শিল্প ফেরাতে ‘টাটা’ এবং ‘সুরক্ষিত সীমান্ত’ পাওয়ার জন্য বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান তিনি।
আয়বৃদ্ধি ও হলফনামা: নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় যেখানে ছিল ৮.১৩ লক্ষ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭.৩৮ লক্ষ টাকায়।
মনোনয়ন পেশের দিন শুভেন্দুর এই ‘ডবল ধামাকা’ হুঙ্কার কলকাতার রাজনৈতিক উত্তাপকে যে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।





