গুজরাতি তোষণ না কি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা? মহুয়ার বিতর্কের পর দেওয়াল লিখনে ‘গুজরাতি ভাষা’ ব্যবহার ঘাসফুল শিবিরের!

মহুয়া মৈত্রর একটি বিতর্কিত মন্তব্য কি ভবানীপুরের ভোটবাক্সে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে? পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবার ভবানীপুরের ‘গুজরাতি’ আবেগ সামলাতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মহুয়ার মন্তব্যের পর তৈরি হওয়া অস্বস্তি কাটাতে পাড়ার সাধারণ প্রচার ছেড়ে এবার ‘কর্পোরেট স্টাইলে’ জনসংযোগে জোর দিচ্ছে শাসকদল।

ভোলবদল তৃণমূলের প্রচার কৌশলে:

ভবানীপুরের উঁচু ফ্ল্যাট ও অভিজাত আবাসনগুলিতে এখন তৃণমূল কর্মীদের দেখা যাচ্ছে একেবারে ভিন্ন অবতারে। সেখানে কোনো স্লোগান নয়, বরং ইংরেজিতে কথা বলা, শহরের নিরাপত্তা, আধুনিক পরিকাঠামো এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ নিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তাঁরা।

তৃণমূলের নতুন কৌশলের মূল দিকগুলি:

  • কর্পোরেট স্টাইল: ইংরেজি ভাষায় শিক্ষিত ও সচ্ছল ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।

  • আবাসন মিটিং: রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনগুলির সঙ্গে চা-কফির আড্ডায় বৈঠক।

  • গুজরাতি ভাষা: ড্যামেজ কন্ট্রোলে দেওয়ালে দেওয়ালে গুজরাতি ভাষায় প্রচার ও দেওয়াল লিখন।

মহুয়ার সেই মন্তব্য ও ‘ক্ষমা’ রাজনীতি:

তৃণমূলের সদর দফতরে বসে গুজরাতিদের নিয়ে মহুয়া মৈত্রের কটূক্তি চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। যার প্রভাব পড়তে পারে ভবানীপুরের ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের বড় ভোটব্যাঙ্কে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে তড়িঘড়ি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসু। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মহুয়ার ওই মন্তব্য ব্যক্তিগত, দলের অবস্থান নয়।

সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক বিজেপি:

এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতাদের দাবি, তৃণমূলের মনেই গুজরাতি-বিরোধী মনোভাব গেঁথে আছে। ভোটারদের তৃণমূল বয়কটের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি গুজরাত বিজেপির কোনো প্রতিনিধিকে ভবানীপুরের প্রচারে নামানোর পরিকল্পনা করছে পদ্ম-শিবির।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy