অসমের ভোটে পাকিস্তানের হাত? কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ হিমন্ত বিশ্বশর্মার

অসমের বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্র এবার সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে গেল প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে! সৌজন্যে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এক চাঞ্চল্যকর দাবি। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত দাবি করেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নাকি নিয়মিত অসমের রাজনীতি এবং কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ-কে নিয়ে আলোচনা চলছে।

“পাকিস্তান কেন গৌরবকে ক্লিনচিট দিচ্ছে?”

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অভিযোগ, ওপার বাংলার মতো ওপার সীমান্ত থেকেও নাকি অসমের নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন:

“পাকিস্তানের মিডিয়ায় প্রতিদিন টক শো হচ্ছে, যেখানে গৌরব গগৈকে নির্দোষ বা ‘ক্লিনচিট’ দেওয়া হচ্ছে। এর থেকেই পরিষ্কার যে তাঁদের সাথে পাকিস্তানের এক শক্তিশালী যোগসূত্র রয়েছে। প্রশ্ন হলো, একটি বিদেশি দেশের সংবাদমাধ্যম কেন আমাদের রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে এত উৎসাহী?”

সনাতন ধর্ম ও ‘লেফট-লিবারেল’ গোষ্ঠী

মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল তথাকথিত ‘লেফট-লিবারেল’ গোষ্ঠীও। তাঁর দাবি, একদল মানুষ পরিকল্পিতভাবে সনাতন ধর্মকে শেষ করার চেষ্টা করছে এবং কংগ্রেস তাদের মদত দিচ্ছে। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অসম সফরকেও একহাত নিয়েছেন তিনি। হিমন্তের কটাক্ষ,

“ওঁরা নিজেরাও জানেন যে এবার হার নিশ্চিত, তাই শেষবেলায় আত্মবিশ্বাসের অভাবে বারবার অসমে এসে সভা করে যাচ্ছেন।”

ওয়েইসি-কেও কড়া বার্তা

শুধু কংগ্রেস নয়, AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-কেও কড়া বার্তা দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভোটের আগে অনেকে অনেক রকম স্লোগান দিলেও ফল প্রকাশের পর একটাই ধ্বনি শোনা যাবে— “মোদী মোদী”। ওয়েইসির উপস্থিতি অসমে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করেন তিনি।

চড়ছে পারদ, সরগরম গুয়াহাটি

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে ‘পাকিস্তান-যোগ’ টেনে এনে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উসকে দিতে চাইছেন হিমন্ত। পাল্টা কংগ্রেসের দাবি, আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই এই ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে বাকযুদ্ধ ততই তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার, পাকিস্তানের এই ‘যোগসূত্র’ তত্ত্ব অসমের সাধারণ ভোটারের মনে কতটা প্রভাব ফেলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy