আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক রহস্যময় নাটকের সাক্ষী বিশ্ব রাজনীতি। ভারতের গুজরাট উপকূলে আসার কথা থাকলেও মাঝসমুদ্রে হঠাৎই পথ পরিবর্তন করল বিতর্কিত ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার ‘পিং শুন’। ভারতের বদলে এখন জাহাজটির অভিমুখ চিনের দোংইং বন্দরের দিকে। এই আকস্মিক ভোলবদলে দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে।
বিতর্কিত ‘পিং শুন’ ও নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল: এই জাহাজটিকে ঘিরে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম উঠেছিল এই ট্যাঙ্কারটির। জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর দাবি:
দিনকয়েক আগেও জাহাজটি ভারতের ভাদিনার বন্দরে আসার কথা ছিল।
হঠাৎই গতিপথ বদলে এটি এখন দক্ষিণ দিকে চিনের অভিমুখে এগোচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাঝসমুদ্রে যে কোনো সময় ফের বদলে যেতে পারে এর গন্তব্য।
কেন এই আকস্মিক ইউ-টার্ন? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর নেপথ্যে থাকতে পারে একাধিক কারণ: ১. আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিতে না পারা। ২. তেলের দাম নিয়ে শেষ মুহূর্তের রফায় গরমিল। ৩. বিমা সংক্রান্ত জটিলতা অথবা চিনের পক্ষ থেকে লোভনীয় কোনো প্রস্তাব।
ভারতের ওপর প্রভাব ও ট্রাম্প ফ্যাক্টর: সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানি তেল বিক্রিতে কিছুটা ছাড় দিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে তেল নিয়ে রওনা দিয়েছিল এই জাহাজটি। ভারতের জন্য এই ঘটনা উদ্বেগের কারণ:
ভারত তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক ইরান-সংঘাতের জেরে এমনিতেই জোগানে টান পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে একটি বড় তেলবাহী জাহাজের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভারতের শক্তিক্ষেত্রে নতুন চাপের ইঙ্গিত।
এডিটরস নোট: জ্বালানি নিয়ে এই টানাপড়েন কি তবে দেশের বাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে? ভারত কি পারবে কূটনৈতিক স্তরে এই সমস্যার সমাধান করতে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।





