বাংলা সনের প্রবর্তন নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, সপ্তম শতকে গৌড়রাজ শশাঙ্ক এই দিনপঞ্জির সূচনা করেছিলেন। তবে মুঘল সম্রাট আকবরের সময়েই এর প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। কর বা খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তিনি ‘ফসলি সন’-এর প্রবর্তন করেন, যা কালক্রমে ‘বঙ্গাব্দ’ নামে পরিচিত হয়। চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে খাজনা মিটিয়ে বৈশাখের প্রথম দিনে মিষ্টিমুখের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হতো।
হালখাতা: খেরো খাতার নতুন পাতা
বাঙালির নববর্ষের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো হালখাতা। পুরনো বছরের সব দেনা-পাওনা মিটিয়ে নতুন বছরের নতুন হিসাব বই খোলার এই রীতি আজও অমলিন। বিশেষ করে সোনার দোকান এবং বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে লক্ষ্মী-গণেশ পুজো ও খদ্দেরদের মিষ্টিমুখ করানোর ধুম পড়ে যায় এদিন।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নববর্ষের হরেক রূপ
সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন নামে পালিত হয়:
পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ: পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ।
অসম: রঙ্গালি বিহু।
পঞ্জাব: বৈশাখী।
কেরল: বিষু।
তামিলনাড়ু: পুঠান্ডু।
ওড়িশা: বিশুব সংক্রান্তি।
কলকাতার নববর্ষ: প্রভাতফেরি থেকে চৈত্র সেল
কলকাতার নববর্ষ উদযাপন শুরু হয় চৈত্র মাসের ‘সেল’ থেকে। নতুন জামাকাপড় পরে ধুতি-পাঞ্জাবি আর শাড়িতে সেজে এদিন শহরের মন্দিরগুলোতে ঢল নামে মানুষের। দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট— ভোর থেকেই লম্বা লাইন পড়ে পুজো দেওয়ার জন্য। পাড়ায় পাড়ায় চলে প্রভাতফেরি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর বাড়িতে বাড়িতে ভূরিভোজ তো আছেই!
তারিখ ও সময়
গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ বছর চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হবে ১৪ এপ্রিল (সোমবার)। তার পরের দিন অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল (মঙ্গলবার দিবাগত বুধবার) হলো পয়লা বৈশাখ। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসেবে ১৫ এপ্রিল, বুধবার দিনটিই নববর্ষ হিসেবে উদযাপিত হবে।





