বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কাঁথি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠকে বসেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনে এই জেলায় আশাপ্রদ ফল না হওয়ায় এবার সুর নরম নয়, বরং কড়া দাওয়াই দিলেন অভিষেক। সাফ জানিয়ে দিলেন, এখন থেকে তৃণমূলের পদে থাকার একটাই মাপকাঠি— ‘পারফরম্যান্স’।
গাফিলতি হলেই কড়া ব্যবস্থা: প্রধান-উপপ্রধানদের স্ক্যানারে অভিষেক বৈঠক সূত্রে খবর, অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন যে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি বলেন, “ভালো কাজ করলে দল পুরস্কৃত করবে, কিন্তু গাফিলতি হলে রেয়াত করা হবে না। শুধু অঞ্চল সভাপতি নয়, এবার প্রধান ও উপপ্রধানদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অর্থাৎ ভোটের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে স্থানীয় নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
শুভেন্দুর গড়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ২০২১-এর নির্বাচনে কাঁথি উত্তর, দক্ষিণ, ভগবানপুর এবং খেজুরির মতো আসনগুলি দখল করেছিল বিজেপি। লোকসভার নিরিখেও এই এলাকায় গেরুয়া শিবির অনেকটা এগিয়ে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এই শক্ত ঘাঁটিতে এবার দাঁত ফোটাতে মরিয়া তৃণমূল। কাঁথি সাংগঠনিক জেলার ৮টি বিধানসভা আসনেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিয়েছেন অভিষেক।
মান-অভিমান ভুলে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ের ডাক চণ্ডীপুর বা খেজুরির মতো এলাকায় প্রার্থী বদল বা নতুন মুখ নিয়ে নিচুতলায় কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। সেই ক্ষোভ প্রশমনে অভিষেক বলেন, “দল যাঁকে প্রার্থী করেছে, আমার ভালো লাগুক না লাগুক তাঁকে জেতানো আমাদের দায়িত্ব। এখানে মান-অভিমানের কোনও জায়গা নেই।” আগামী ২০ থেকে ২৫ দিন নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে বিজেপিকে রুখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দুর্বলতা খুঁজে বের করার নির্দেশ লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিষেক মেনে নেন যে দলের ভেতরেই কোথাও দুর্বলতা রয়েছে। তাঁর মতে, দল কারও একার দায়িত্বে চলে না। তাই বুথ ভিত্তিক বিশ্লেষণ করে কোথায় খামতি রয়েছে তা দ্রুত খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দুর খাসতালুকে দাঁড়িয়ে অভিষেকের এই ‘ক্লিন আপ’ ড্রাইভ শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





