আজকালকার ডিজিটাল যুগে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। পড়াশোনার চাপ কিংবা অবাধ্যপনা—কারণ যাই হোক না কেন, অনেক সময় আমরা মেজাজ হারিয়ে সন্তানের ওপর চিৎকার করি বা বকাঝকা করি। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শাসন যত কড়া হয়, সন্তান তত বেশি বিদ্রোহী এবং একরোখা হয়ে ওঠে। শাসন নয়, বরং সন্তানের বন্ধু হওয়াটাই বর্তমান সময়ের সঠিক প্যারেন্টিং।
কীভাবে বকাঝকা না করে আপনার সন্তানের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠবেন? রইল বিশেষজ্ঞদের সেরা ৫ টিপস:
১. আগে শুনুন, তারপর বলুন
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা সন্তানের কথা শেষ হওয়ার আগেই উপদেশ দিতে শুরু করি। বন্ধু হতে চাইলে আগে তার কথা মন দিয়ে শুনুন। সে স্কুলে কী করল, কার সাথে মিশল—সবটা মন দিয়ে শুনলে সে অনুভব করবে যে আপনার কাছে তার মতামতের গুরুত্ব আছে।
২. ছোটখাটো ভুলে চিৎকার নয়
সন্তান ভুল করলে সাথে সাথে চিৎকার বা মারধর করবেন না। এতে সে আপনার কাছে সত্যি কথা বলতে ভয় পাবে এবং মিথ্যা বলা শিখবে। শান্ত হয়ে তাকে বোঝান কেন কাজটি ভুল ছিল। এতে আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস দুই-ই বাড়বে।
৩. তাদের জগতকে গুরুত্ব দিন
আপনার পছন্দের বিষয় সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। সে হয়তো কোনো বিশেষ গেম পছন্দ করে বা কোনো বিষয়ে আগ্রহী। তার সেই আগ্রহের সাথে নিজেকে যুক্ত করুন। তার পছন্দের খেলা খেললে বা সিনেমা দেখলে সে আপনাকে অভিভাবকের চেয়েও বড় ‘পার্টনার’ মনে করবে।
৪. কোয়ালিটি টাইম কাটান
দিনের শেষে অন্তত ৩০ মিনিট মোবাইল দূরে রেখে সন্তানের সাথে কাটান। এই সময়টা কেবলই আপনাদের। একসাথে গল্প করুন বা হাসাহাসি করুন। এই নিবিড় সময়টুকু আপনাদের সম্পর্কের দেওয়াল ভেঙে বন্ধুত্ব গড়ে তুলবে।
৫. ভুল করলে আপনিও ক্ষমা চান
অনেক বাবা-মা ভাবেন সন্তানের কাছে ক্ষমা চাইলে সম্মান কমে যায়। আসলে বিষয়টি উল্টো। আপনি ভুল করলে বা অকারণে বকা দিলে যদি সহজভাবে ‘সরি’ বলেন, তবে সন্তান শিখবে যে ভুল স্বীকার করা সাহসের কাজ। এটি আপনাদের মধ্যে এক অদৃশ্য আস্থার বন্ধন তৈরি করবে।





