বর্তমান সময়ে হার্ট অ্যাটাক আর কেবল বার্ধক্যের রোগ নয়; অল্পবয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং মানসিক চাপ আমাদের অজান্তেই হার্টকে দুর্বল করে দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই আসলে ‘সাইলেন্ট কিলার’ হিসেবে কাজ করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘজীবী হতে চাইলে আজই আপনার রুটিন থেকে এই ৫টি অভ্যাস ছেঁটে ফেলুন:
১. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস:
অফিসের কাজ হোক বা বাড়ির আড্ডা—একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং ধমনীতে চর্বি জমার সুযোগ পায়। প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস করুন।
২. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া:
খাবারের পাতে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা আজই বর্জন করুন। লবণে থাকা সোডিয়াম রক্তচাপ (Blood Pressure) বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি হার্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। প্রসেসড ফুড বা চিপস এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব:
দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ঘুমের অভাব স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয় এবং হার্টের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। রাতের পর রাত জেগে ওয়েব সিরিজ দেখা বা ফোন ঘাঁটা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৪. মানসিক চাপ বা স্ট্রেসকে পাত্তা না দেওয়া:
ক্রনিক স্ট্রেস বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হার্টের সবথেকে বড় শত্রু। মানসিক চাপ বাড়লে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল—দুটোই বাড়তে শুরু করে। মন শান্ত রাখতে নিয়মিত যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম বা প্রিয় শখের কাজে সময় কাটান।
৫. শরীরচর্চায় অনীহা:
শুনতে সাধারণ মনে হলেও, কায়িক পরিশ্রম না করা হার্টের জন্য বিপদজনক। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম হার্টের পেশিকে মজবুত রাখে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: বুক ধড়ফড় করা, সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা বা চোয়াল ও বাম হাতে ব্যথা হলে অবহেলা করবেন না। এগুলো হার্টের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।





