গ্রীষ্মের দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। ঘরের বাইরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে ছাদের প্লাস্টিকের ট্যাঙ্কের জল এতটাই গরম হয়ে যায় যে, সেই জলে স্নান করা তো দূর, হাত দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। দুপুরবেলা বা বিকেলে কল খুললেই মনে হয় যেন ফুটন্ত জল বেরোচ্ছে।
এসি বা এয়ার কুলারের খরচ সামলালেও জল ঠান্ডা রাখা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। তবে চিন্তা নেই! কোনো দামী যন্ত্র ছাড়াই মাত্র কয়েকটি ঘরোয়া কৌশলে আপনার ট্যাঙ্কের জলকে রাখতে পারেন বরফ-শীতল। দেখে নিন কীভাবে:
১. থার্মোকল বা ইনসুলেশন শিটের ব্যবহার:
ট্যাঙ্ক গরম হওয়ার প্রধান কারণ হলো সরাসরি সূর্যের আলো। ট্যাঙ্কের চারপাশ এবং উপরের ঢাকনা থার্মোকল বা হিট ইনসুলেশন অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে মুড়িয়ে দিন। এটি বাইরের তাপকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেবে, ফলে জল থাকবে একদম ঠান্ডা।
২. চটের বস্তার জাদুকরী প্রভাব:
এটি সবথেকে সস্তা এবং কার্যকরী পদ্ধতি। কয়েকটি পুরনো চটের বস্তা নিয়ে সেগুলো জলে ভিজিয়ে ট্যাঙ্কের চারপাশে জড়িয়ে বেঁধে দিন। দিনে দুই-তিনবার এই বস্তাগুলো ভিজিয়ে দিলে ‘ইভাপোরেটিভ কুলিং’ পদ্ধতিতে ট্যাঙ্কের জল দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা থাকবে।
৩. শেড বা ছাউনি তৈরি করা:
যদি সম্ভব হয়, ট্যাঙ্কের উপরে বাঁশ বা কাঠের কাঠামো তৈরি করে সবুজ নেট (Green Net) বা খড় দিয়ে একটি ছাউনি বানিয়ে দিন। সরাসরি রোদ না লাগলে জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকে।
৪. ট্যাঙ্কের পাইপলাইনে ইনসুলেশন:
অনেক সময় ট্যাঙ্ক ঠান্ডা থাকলেও পাইপের ভেতরে থাকা জল রোদে তেতে ওঠে। তাই জল আসার পাইপগুলোকেও ইনসুলেশন টেপ বা সাদা রং দিয়ে ঢেকে দিলে কল খুললেই ঠান্ডা জল পাওয়া সম্ভব।
৫. সাদা রঙের ব্যবহার:
কালো বা গাঢ় রঙের ট্যাঙ্ক দ্রুত তাপ শোষণ করে। যদি সম্ভব হয়, ট্যাঙ্কের বাইরে ভালো মানের সাদা রিফ্লেক্টিভ রং লাগিয়ে নিন। সাদা রং সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে দেয়, ফলে ট্যাঙ্ক গরম হতে পারে না।
অতিরিক্ত টিপস: দুপুরে যখন তাপমাত্রা সবথেকে বেশি থাকে, তখন জল ব্যবহার করার ১৫-২০ মিনিট আগে কলের মুখ দিয়ে কিছুক্ষণ গরম জল বের করে দিন। এরপরই আপনি ট্যাঙ্কের নিচের স্তরের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা জল পেতে শুরু করবেন।





