যাত্রীবাহী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সাফল্যের পর এবার মাল পরিবহণের দুনিয়ায় বিপ্লব আনতে চলেছে ভারতীয় রেল। দেশের পণ্য পরিবহণে অভূতপূর্ব গতি আনতে খুব শীঘ্রই ট্র্যাকে নামতে চলেছে বন্দে ভারতের আদলে তৈরি বিশেষ ‘কারগো ট্রেন’ বা পণ্যবাহী বন্দে ভারত।
রেলমন্ত্রক সূত্রে খবর, দিল্লি-মুম্বই করিডোরকে পাখির চোখ করেই এই পরিষেবার সূচনা হতে চলেছে। ইতিমধ্যে চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) প্রথম প্রোটোটাইপ রেকটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই লখনউয়ের আরডিএসও (RDSO)-র নজরদারিতে শুরু হবে এর ট্রায়াল রান।
কেন এই ট্রেন বিশেষ? দেখে নিন ৪টি মূল বৈশিষ্ট্য:
রেকর্ড গতি: ভারতের বর্তমান মালগাড়িগুলির গতি সাধারণত ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের নিচে থাকে। কিন্তু এই নতুন ট্রেনটি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে সক্ষম।
বিশাল ক্ষমতা: ১৬টি কোচের এই ট্রেনটি একলপ্তে প্রায় ২৬৪ টন মাল বহন করতে পারবে।
লজিস্টিক বিপ্লব: দ্রুত পণ্য পৌঁছনোর ফলে পচনশীল দ্রব্য এবং জরুরি ই-কমার্স পার্সেল পরিবহণে আসবে আমূল পরিবর্তন।
সাশ্রয়ী সময়: দিল্লি থেকে মুম্বইয়ের মতো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে বর্তমানে যে সময় লাগে, এই ট্রেনের দৌলতে তা কয়েক ঘণ্টা কমে আসবে।
খরচ নিয়ে সংশয়: কতটা বাড়বে ভাড়া?
পণ্য পরিবহণে গতি আসলেও একটা বড় প্রশ্ন কিন্তু থেকে যাচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের মনে। যাত্রীবাহী বন্দে ভারতের ভাড়া সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এখন প্রশ্ন হলো, পণ্যবাহী বন্দে ভারতে মাল পাঠানোর খরচও কি আকাশছোঁয়া হবে? যদিও রেলের তরফে ভাড়ার তালিকা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে অনেকেরই আশঙ্কা—দ্রুত পরিষেবার জন্য খসতে পারে বাড়তি টাকা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চালু হলে ভারতীয় রেলের লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমে যাবে, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিমানে পণ্য পাঠানোর যে উচ্চ খরচ, তার বিকল্প হিসেবে বন্দে ভারত কারগো একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, পণ্যবাহী বন্দে ভারত কেবল একটি ট্রেন নয়, বরং ভারতীয় রেলের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা হতে চলেছে।





