নয়াদিল্লি: গত কয়েক বছরের লাগামহীন দৌড়ের পর ২০২৬-এর শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল দেশের আবাসন শিল্প। দীর্ঘ ১৮টি ত্রৈমাসিক অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই প্রথমবার শীর্ষ শহরগুলোতে ফ্ল্যাট বা বাড়ি বিক্রির গ্রাফ এক লক্ষের নিচে নেমে এল। প্রপইকুইটির (PropEquity) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে আবাসন বিক্রির হার কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
পুনে-মুম্বইয়ে বড় ধস, তালিকায় হায়দরাবাদও রিপোর্ট বলছে, ২০২৬-এর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে দেশের শীর্ষ ৯টি শহরে মোট ৯৮,৭৬১টি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। গত বছর ঠিক এই সময়ে বিক্রির সংখ্যা ছিল ১,১৩,৬০২। সবচেয়ে বেশি পতন লক্ষ্য করা গেছে মহারাষ্ট্রে।
-
পুনেতে বিক্রি কমেছে ২৫%।
-
থানেতে পতন ২৪%।
-
মুম্বইয়ে আবাসন বিক্রি কমেছে ২০%।
-
দক্ষিণের শহর হায়দরাবাদেও ১৬% পতন দেখা গেছে। অন্যদিকে, কলকাতা (৩,৮৭২ ইউনিট) এবং চেন্নাইয়ের (৪,৭৬৫ ইউনিট) মতো ছোট বাজারগুলো এখনও মন্থর গতিতেই এগোচ্ছে।
ব্যতিক্রমী দিল্লি এবং বেঙ্গালুরু চারিদিকে যখন মন্দার মেঘ, তখন কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে দিল্লি-এনসিআর এবং বেঙ্গালুরু।
রিপোর্ট কার্ড: এই মুহূর্তে দেশে সবচেয়ে বেশি বাড়ি বিক্রি হয়েছে বেঙ্গালুরুতে (১৭,৯৯১ ইউনিট)। এর ঠিক পরেই রয়েছে পুনে, থানে এবং দিল্লি-এনসিআর।
কেন এই হঠাৎ মন্দা? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো নতুন প্রকল্পের জোগানে ঘাটতি। অর্থাৎ, ক্রেতা থাকলেও অনেক শহরে চাহিদামতো নতুন ফ্ল্যাট তৈরি হয়নি। তবে এর মধ্যেও আশার আলো দিল্লি-এনসিআর। সেখানে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেঙ্গালুরুতেও নতুন ফ্ল্যাট তৈরির গতি আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের শুরুটা আবাসন শিল্পের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও, নির্দিষ্ট কিছু শহরে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধি ভবিষ্যতে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।