রাজনৈতিক টক্কর এবার নীল দিগন্তে! ঘাসফুল, কাস্তে-হাতুড়ি না পদ্ম— ঘুড়ির লড়াইতে জিতল কে?

বাংলার ভোটের লড়াই মানেই দেওয়াল লিখন, সভা আর মিছিল। কিন্তু এবার সেই লড়াইয়ের ময়দান বদলে গিয়েছে নীল আকাশে। লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজ্যের আকাশে শুরু হয়েছে এক অন্যরকম ‘আকাশ-যুদ্ধ’। রাজনৈতিক দলের ঝান্ডা বা পোস্টার নয়, এবার মানুষের হাতে হাতে ফিরছে রাজনৈতিক প্রতীকের ছাপ দেওয়া ঘুড়ি। আর সেই ঘুড়ির চাহিদাতেও চলছে সমানে সমানে টক্কর। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, ঘুড়ির বিক্রির দৌড়ে আপাতত সবাইকে পিছনে ফেলে এক নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, ঘাসফুল শিবিরের লোগো দেওয়া ঘুড়ির চাহিদা আকাশচুম্বী। ছোট থেকে বড়— সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এই ঘুড়ি নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। ব্যবসায়ীদের মতে, তৃণমূলের পরই দুই নম্বরে রয়েছে সিপিআইএম। তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ এবং বামপন্থী সমর্থকদের মধ্যে লাল পতাকার প্রতীক দেওয়া ঘুড়ির টান প্রবল। আশ্চর্যজনকভাবে, এই তালিকায় তিন নম্বরে স্থান পেয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের ঘুড়ি বিক্রি হলেও তা প্রথম দুটির তুলনায় কিছুটা কম।

কলকাতার শোভাবাজার, শিয়ালদহ থেকে শুরু করে মফস্বলের ঘুড়ি তৈরির কারিগররা এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন। দিনরাত এক করে তৈরি হচ্ছে প্রতীক দেওয়া ঘুড়ি। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, অর্ডার এত বেশি যে তারা জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। একে তো ভোটের উত্তাপ, তার ওপর ছুটির দিনে ঘুড়ি ওড়ানোর আমেজ— এই দুইয়ে মিলে ঘুড়ির বাজার এখন তুঙ্গে। এই ‘ঘুড়ি-যুদ্ধ’ আদতে ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময় বলবে, তবে বাংলার আকাশ যে এখন রাজনৈতিক রঙে রঙিন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy