সুস্থ ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের প্রথম ধাপ শুরু হয় আপনার রান্নাঘর থেকেই। প্লাস্টিকের কন্টেনার খাবার তাজা রাখলেও, এর থেকে নির্গত রাসায়নিক শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। একইসঙ্গে প্লাস্টিক দূষণ প্রকৃতির জন্য অভিশাপ। কিন্তু প্লাস্টিক ছাড়াই কি খাবার দাবার দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব? উত্তর হলো— হ্যাঁ।
জেনে নিন প্লাস্টিক বর্জন করে কীভাবে আপনার রান্নাঘরের খাবারদাবার সতেজ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর রাখবেন:
১. হিমায়িত খাবারে স্টিল বা কাঁচের জাদু খাবার ফ্রিজে রাখতে প্লাস্টিক বক্সের বদলে স্টেইনলেস স্টিল বা কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন। এগুলো শুধু টেকসই নয়, বরং খাবারের স্বাদে কোনো পরিবর্তন আনে না। সবচেয়ে বড় কথা, কাঁচের পাত্রে ভেতর থেকে খাবার দেখা যায় বলে তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
২. শাক-সবজি রাখুন ভেজা কাপড়ে শিম, মটরশুঁটি বা কাঁচালঙ্কার মতো সবুজ সবজি প্লাস্টিকের প্যাকেটে না রেখে একটি সুতির ভেজা কাপড়ে মুড়ে ফ্রিজে রাখুন। এতে সবজিগুলো প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পাবে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ থাকবে।
৩. রুটি হবে তুলতুলে নরম রুটি বা পাউরুটি প্লাস্টিকে রাখলে দ্রুত শক্ত হয়ে যায়। এর বদলে কাপড়ে মুড়ে একটি ব্রেড বক্সে রাখুন। কাপড় রুটিকে শুকিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায় আর ব্রেড বক্স বাড়তি বাতাস ঢুকতে বাধা দেয়।
৪. সরাসরি ফ্রিজে ফল কলা, টমেটো বা আঁটিযুক্ত ফলগুলো কোনো প্লাস্টিক ছাড়াই সরাসরি ফ্রিজের বাস্কেটে রাখুন। এতে ফলের শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে এবং পচন রোধ হয়। পরবর্তীতে এগুলো দিয়ে অনায়াসেই স্মুদি বা সস তৈরি করা যায়।
৫. পেঁয়াজ ও আলুর জন্য ‘নো প্লাস্টিক’ পেঁয়াজ ও আলু কখনোই প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখবেন না। এগুলি সবসময় ঝুড়িতে খোলা অবস্থায় অন্ধকার ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। মনে রাখবেন, পেঁয়াজ ও আলু কখনোই একসাথে রাখবেন না; কারণ পেঁয়াজ থেকে নির্গত গ্যাস আলুকে দ্রুত পচিয়ে দেয়।
৬. ভেষজ পাতা রাখুন ফুলের মতো ধনেপাতা, পুদিনা বা পার্সলে পাতা দীর্ঘক্ষণ তাজা রাখতে সেগুলোকে একটি গ্লাসে বা জারে জল দিয়ে সাজিয়ে রাখুন। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা ফ্রিজে রাখলে এগুলো একদম টাটকা থাকবে।
৭. অবশিষ্ট খাবারের জন্য বয়াম রাতের বেঁচে যাওয়া তরকারি বা ডাল প্লাস্টিকের বাটিতে না রেখে কাঁচের বয়ামে ভরে রাখুন। কাঁচ বিষাক্ত নয় এবং কোনো গন্ধ শোষণ করে না, ফলে খাবারের গুণমান অটুট থাকে।
পরিবেশ রক্ষায় ও নিজের স্বাস্থ্যের খাতিরে আজই আপনার রান্নাঘরকে করুন প্লাস্টিকমুক্ত। এই ছোট পরিবর্তনগুলোই আপনার জীবনকে দেবে দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতা।