বৃহস্পতিবার বিকেল। পশ্চিম বর্ধমানের প্রচার সেরে অন্ডাল থেকে ১২ আসনের বিজ়নেস জেটে চড়ে কলকাতার পথে রওনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কে জানত, দমদম বিমানবন্দরের ঠিক কয়েক কিলোমিটার আগেই তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা! আচমকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা মাঝ আকাশেই চক্কর কাটতে থাকল মুখ্যমন্ত্রীর বিমান।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটে? বিকেল ৪টে নাগাদ যখন মুখ্যমন্ত্রীর ফ্যালকন–২০০০ বিমানটি কলকাতায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই আচমকা আবহাওয়া চরম বিগড়ে যায়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে আকাশ। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC) থেকে অবতরণের অনুমতি মিলছিল না। দাউদাউ ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে ছোট বিমান নামানো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকির। ফলে বাধ্য হয়েই মেঘলা আকাশে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে চক্কর কাটতে থাকে ভিভিআইপি বিমানটি।
পাইলটকে ‘দরাজ সার্টিফিকেট’ মমতার: শুক্রবার ফের দুর্গাপুর যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে সেই শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নিজের কষ্টের চেয়েও তাঁর বিমানে পাইলটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। মমতা বলেন:
“বিমানের পাইলট অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। ‘হি ট্রায়েড হিজ বেস্ট টু সেভ মাই লাইফ’। আমার নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য উনি সবরকম চেষ্টা করেছিলেন। এর থেকে বেশি আর কিছু বলব না।”
কেন দেরি হলো অবতরণে? ডিজিসিএ (DGCA) সূত্রে খবর, ফ্যালকনের মতো ছোট এয়ারক্র্যাফ্ট ঝোড়ো হাওয়ায় ভারসাম্য হারানোয় ভয় থাকে বেশি। তার ওপর আরোহী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি এটিসি। আবহাওয়া কিছুটা পরিষ্কার হতেই অন্যান্য যাত্রীবাহী বিমানকে হোল্ডে রেখে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে (Priority Landing) সবার আগে নামিয়ে আনা হয় মুখ্যমন্ত্রীর বিমানটিকে।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার বিমান বিভ্রাটের মুখে পড়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে এদিনের ঘটনাটি যে তাঁকে যথেষ্ট উদ্বেগে রেখেছিল, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।