তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর থেকে শুরু করে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম—রাজ্য রাজনীতির হেভিওয়েটদের নাম টেনে মঙ্গলবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সল্টলেকের দলীয় দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাম মন্দির এবং বাবরি মসজিদ ইস্যুতে তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য? এদিন আক্রমণাত্মক মেজাজে শমীক বলেন, “কারও যদি সাহস থাকে, সে মিম-ই হোক বা হুমায়ুন কবীর কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফিরহাদ হাকিম; একবার দেখান তো বাবরি মসজিদ বানিয়ে। পুরা ভারত টুট পড়বে।” তাঁর দাবি, ভারত যে ‘গোলামির নিশান’ শরীর দিয়েছে, তা কোনোভাবেই আর ফিরতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ সেই চেষ্টা করে, তবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
‘মিনি পাকিস্তান’ ও ফিরহাদ প্রসঙ্গ: ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করেছিলেন যে, বিজেপি না কি হুমায়ুন কবীরের দলকে অর্থ সাহায্য করছে। এই প্রশ্নের উত্তরে শমীক কড়া ভাষায় বলেন, “ফিরহাদ হাকিমের কাছে নিশ্চয়ই খবর আছে, তাই বলছেন। ওঁর যে ‘মিনি পাকিস্তান’ আছে, সেখানে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এই ধরনের বিষয় নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেননি?”
আসল শত্রু কারা? শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপির লড়াই কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, “ভারতীয় মুসলমানদের সঙ্গে বিজেপির কোনও বিরোধ নেই। আমরা এপিজে আব্দুল কালাম বা কাজী নজরুল ইসলামের মতো ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বা আফজল গুরুর সমর্থকদের আমরা কোনওভাবেই বরদাস্ত করব না।” উল্লেখ্য, এদিনের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের মুখে শমীকের এই মন্তব্য সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উসকে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।