ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র। ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের পরই লোকসভার ভোল বদলে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে মোদী সরকার। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সংসদের আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৮১৬ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আর এই বর্ধিত আসনের হাত ধরেই দেশে কার্যকর হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’।
কেন এই বড় রদবদল? মহিলাদের জন্য লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিল আগেই পাস হয়েছে, কিন্তু ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় তা ঝুলে ছিল। এবার সেই জট কাটাতে সংবিধান সংশোধনী ও নতুন বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। লক্ষ্য একটাই— ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলাদের সংরক্ষিত আসন সুনিশ্চিত করা।
আসন বিন্যাসের নতুন সমীকরণ: প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করেই এই আসন পুনর্বিন্যাস হতে পারে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে:
-
লোকসভার মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৮১৬-এ।
-
এর মধ্যে প্রায় ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
-
নতুন সংসদ ভবনের পরিকাঠামো মূলত এই বর্ধিত আসন সংখ্যার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা: এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য কেবল বিল আনলেই হবে না, প্রয়োজন সংবিধান সংশোধন। আর সেই পথ মসৃণ করতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছে শাসক দল। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই শিবসেনা (উদ্ধব শিবির) এবং এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী)-র মতো দলগুলির সঙ্গে প্রাথমিক কথা বলেছেন। তবে কংগ্রেসের মতো বড় বিরোধী দলগুলোর অবস্থান কী হয়, এখন সেটাই দেখার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র এবং ক্ষমতার অলিন্দে আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে এটি কেন্দ্রের জন্য এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হতে পারে।