২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে ফুটতে শুরু করেছে নতুন সমীকরণ। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক, আর অন্যদিকে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির AIMIM ও হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির জোট। এই দুই শক্তির মেলবন্ধন কি ঘাসফুল শিবিরের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেবে? না কি বরাবরের মতো ‘বিজেপির বি-টিম’ তকমাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে ওয়েইসি?
ওয়েইসির মাস্টারস্ট্রোক: ওবিসি ও ভোটার লিস্ট ইস্যু
এবার বাংলায় পা রাখার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর দুটি বিষয়কে হাতিয়ার করছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। ২০১০ সালের ওবিসি তালিকা এবং মুসলিমদের নাম বাদ পড়ার ইস্যুকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটারদের আবেগে শাণ দিচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাচার কমিটি বা প্রতীচী-SNAP রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলার মুসলিমদের অনগ্রসর আর্থ-সামাজিক অবস্থানকে এবার সরাসরি রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে AIMIM।
ভোট কাটাকাটির অঙ্ক: দুশ্চিন্তায় তৃণমূল?
বাংলার ২৯৪টি আসনের মধ্যে সমীকরণটি বেশ জটিল:
৪৬টি আসনে ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোটার।
১৬টি আসনে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোটার নির্ণায়ক শক্তি।
৫০টি আসনে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন, হায়দরাবাদ থেকে আসা নেতারা বাংলায় কট্টরপন্থী রাজনীতি করে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে চান। ২০২১-এ বিহারের সীমাঞ্চলে ওয়েইসির দল যে খেলা দেখিয়েছিল, বাংলায় তার পুনরাবৃত্তি হলে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক।
সাফল্য কি নিশ্চিত?
হায়দরাবাদের বাইরে ওয়েইসির ট্র্যাক রেকর্ড কিন্তু মিশ্র। উত্তরপ্রদেশে লড়েও খাতা খুলতে পারেনি AIMIM। তবে বাংলায় হুমায়ুন কবীরের মতো স্থানীয় নেতার সঙ্গে জোট বাঁধায় এবার লড়াইটা অন্যরকম হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলার ভোটাররা কি মসিহা হিসেবে ওয়েইসিকে মেনে নেবেন? না কি বিজেপিকে রুখতে আবারও দিদির ওপরেই ভরসা রাখবেন? উত্তর মিলবে ২০২৬-এর ব্যালট বক্সেই।