“শিক্ষকদের DA নিয়ে বড় প্যাঁচ!”-সরকারি বিজ্ঞপ্তিতেই লুকিয়ে চরম বিপদ? জেনেনিন কি?

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো নিয়ে নবান্ন বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও, তাতে খুশি নন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে বকেয়া টাকা সরাসরি দেওয়ার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। এই ‘প্রশাসনিক জটিলতা’ কাটাতে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল ‘অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’

কেন ক্ষুব্ধ শিক্ষক মহল? গত ১৩ মার্চ রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের (Memo No. 996-F/997-F) ক্ষেত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ আগামী ২০২৬ সালের মার্চ ও সেপ্টেম্বর—এই দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। কিন্তু শিক্ষকদের জন্য জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে (Memo No. 998-F) টাকা দেওয়ার বদলে শুধু ‘তথ্য সংগ্রহের’ কথা বলা হয়েছে। আর এখানেই দানা বেঁধেছে সন্দেহ।

সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে সংগঠন অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই সাফ জানিয়েছেন, “সরকার শিক্ষকদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। আমাদের বকেয়া নিয়ে কোনো দিশা নেই। কেন শিক্ষকদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হলো না, তা জানতে আমরা শিক্ষা দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। এরপর আমরা সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির দ্বারস্থ হব।” তাঁদের দাবি, রোপা ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মেটাতে হবে।

বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকার অপেক্ষায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের ধৈর্যের বাঁধ এবার ভাঙছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে সমস্যার সমাধান না হলে রাজ্যজুড়ে ‘পেন-ডাউন’, গণ-অনুপস্থিতি এবং রিলে অনশনের মতো চরম কর্মসূচি নেওয়া হবে। ভোটমুখী বাংলায় ডিএ নিয়ে এই নতুন অসন্তোষ যে শাসক দলের অস্বস্তি বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy