হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক কি সত্যিই মমতাকে ত্যাগ করবে? বিজেপির নিশানায় বাংলার এই ৫ জেলা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে এখন নতুন এক চর্চা— হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক। বিজেপি নেতৃত্ব বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করছেন, গত লোকসভা নির্বাচনেও রাজ্যে যে ৬ শতাংশ বাড়তি হিন্দু ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে, তা যদি বিজেপির দিকে সরে আসে, তবেই নবান্ন দখল করবে গেরুয়া শিবির। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, হিন্দু ভোট মানেই বিজেপি— এই সমীকরণ বাংলার ক্ষেত্রে এখনও পুরোপুরি খাটেনি।

মমতা-ভিত্তি ও দক্ষিণবঙ্গের ধাঁধা

বিজেপি উত্তরবঙ্গে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করলেও, দক্ষিণবঙ্গের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক এখনও বড় বাধা। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত দেখা গিয়েছে, হিন্দু সংখ্যাগুরু এলাকাগুলোতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের (যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) প্রভাব যথেষ্ট গভীর। ফলে দক্ষিণবঙ্গের হিন্দু ভোটাররা এখনও বড় অংশে তৃণমূলেরই ওপর ভরসা রেখেছেন।

হিন্দু অধ্যুষিত শীর্ষ ৫ জেলা: বিজেপির নজরে যারা

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু প্রধান জেলাগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, মেরুকরণের রাজনীতিতে এই এলাকাগুলোই হবে আগামী নির্বাচনের রণক্ষেত্র:

জেলা হিন্দু জনসংখ্যার হার (প্রায়) রাজনৈতিক গুরুত্ব
পূর্ব মেদিনীপুর ৮৮% শুভেন্দু অধিকারীর গড়, অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
পুরুলিয়া ৮৩% গ্রামীণ ও আদিবাসী ভোটের বড় ফ্যাক্টর।
হুগলি ৮২% শিল্প ও কৃষি মিশ্রিত এলাকায় মেরুকরণের প্রভাব বেশি।
পশ্চিম মেদিনীপুর ৭৮% খড়গপুর-মেদিনীপুর বেল্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
বাঁকুড়া ৭৭% জঙ্গলমহলের এই জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক দাপট বেশি।

অস্মিতা বনাম উন্নয়ন

শুভেন্দু অধিকারী যেখানে ‘বাঙালি হিন্দু অস্মিতা’ এবং ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে হাতিয়ার করে হিন্দু ভোট একত্রিত করতে চাইছেন, সেখানে তৃণমূল পাল্টা কৌশল হিসেবে ‘উন্নয়ন ঘরে ঘরে’ এবং ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-কে সামনে রাখছে। দক্ষিণবঙ্গের এই হিন্দু প্রধান জেলাগুলোতেই নির্ধারিত হবে ২০২৬-এর ভাগ্য।

সব মিলিয়ে, হিন্দু ভোট কি এবার স্রেফ ধর্মের ভিত্তিতে পড়বে, নাকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোই শেষ কথা বলবে— সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy