নির্বাচন কমিশন সূত্রে বড় খবর! SIR (Special Investigation Report) প্রক্রিয়া শেষে ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ বা পেন্ডিং থাকা লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে। আগামী শুক্রবারই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে কমিশন। বুধবার পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রায় ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটারের নাম নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের চূড়ান্ত স্ক্রুটিনির পর এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
হেভিওয়েটদের নামও ছিল তালিকায়
কমিশন সূত্রে খবর, ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারবিভাগীয় নিষ্পত্তির তালিকায় খোদ তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজার নামও ছিল। সূত্রের খবর, তিনি নিজেই আবেদন জানিয়েছিলেন যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং ইতিমধেই তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে চিন্তার ভাঁজ আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েটের কপালে। তৃণমূলের সাগরদিঘির প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস, গোয়ালপোখরের প্রার্থী গোলাম রব্বানি এবং বিজেপির আউশগ্রামের প্রার্থী কলিতা মাজি-র নামও এই একই তালিকায় রয়েছে। তাঁদের নাম আদৌ ভোটার তালিকায় যুক্ত হলো কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে কমিশন।
৩০ শতাংশ নাম সরাসরি বাদ!
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিষ্পত্তির কাজ এগোলেও বড় অংশের ভোটার ছিটকে যাচ্ছেন। কমিশনের জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন:
“ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষের বেশি নাম খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে আশঙ্কার কথা হলো, এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।”
অর্থাৎ, আসন্ন সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় এই ৩০ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার হারাচ্ছেন।
বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল ও পরবর্তী পদক্ষেপ
বর্তমানে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জন। তবে প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
-
বিশেষ সফটওয়্যার: অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের জন্য নতুন একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে।
-
আইনি প্রক্রিয়া: সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সংকেত পেলেই এই সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ্যে আসবে।
-
ট্রাইব্যুনাল: যাদের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ যাবে, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিশেষ বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।
বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত ৭০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক দিনরাত এক করে এই নিষ্পত্তির কাজ চালাচ্ছেন। কমিশন আশাবাদী যে ভোটের আগেই কাজ শেষ হবে। তবে ৩০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়ার এই খবর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।