বিশেষ: ২৯৪ আসনের মধ্যে কোথায় মমতার পা শক্ত? কোথায় দাঁত ফোটাতে পারে পদ্ম শিবির?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এবার লড়াই মূলত তৃণমূলের ‘লৌহবাসর’ বনাম বিজেপির ‘অঙ্ক’। গত তিনটি নির্বাচনের (২০১১, ২০১৬, ২০২১) ফলাফল বিশ্লেষণ করে যে তথ্য সামনে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বাংলার সিংহাসন দখলে তৃণমূলের পাল্লাই এখনও অনেকটা ভারী।

তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ: ২১৪ আসন

ডেটা বলছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের অবস্থা ২১৪টি আসনে বেশ পোক্ত। এর মধ্যে ১১৯টি আসন ‘খুব শক্তিশালী’ (যেখানে গত ৩টি নির্বাচনেই তৃণমূল জিতেছে) এবং ৯৫টি আসন ‘শক্তিশালী’ (যেখানে ৩ বারের মধ্যে ২ বার জয়ী)। বিপরীতে, বিজেপির ঝুলিতে ‘খুব শক্তিশালী’ ক্যাটেগরিতে একটি আসনও নেই, ‘শক্তিশালী’ ক্যাটেগরিতে রয়েছে মাত্র ২টি।

একনজরে দলের শক্তি (গত ৩টি নির্বাচনের নিরিখে):

ক্যাটেগরি তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি
খুব শক্তিশালী (৩/৩ জয়) ১১৯
শক্তিশালী (২/৩ জয়) ৯৫
মোট পোক্ত আসন ২১৪

বিজেপির টার্গেট: তৃণমূলের দুর্বল জায়গা

পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তৃণমূলের দাপট প্রশ্নাতীত। এই অঞ্চলের ১০৫টি আসনের মধ্যে ৯৬টিই ঘাসফুল শিবিরের শক্ত ঘাঁটি। তবে উত্তরবঙ্গ এবং মালদা-মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে তৃণমূলের ভিত কিছুটা নড়বড়ে।

  • জলপাইগুড়ি: এখানে তৃণমূলের অধিকাংশ আসনই ‘দুর্বল’ বা ‘অতি দুর্বল’ ক্যাটেগরিতে।

  • মালদা: এখানকার ৪৯টি আসনের মধ্যে ২৮টিই তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

  • মেদিনীপুর: এই অঞ্চলটি বর্তমানে ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’। এখানে দল বদল এবং একই দলের আধিপত্য বজায় রাখার অনুপাত প্রায় সমান।

ভোট স্যুইং ফ্যাক্টর: নির্ণায়ক হবে ১৩০ আসন?

২০২১ সালের নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল বাংলার ১৩০টি আসনে মানুষ দল পরিবর্তন করেছেন। বিশেষ করে মালদা ও জলপাইগুড়িতে প্রায় ৮০ শতাংশ আসনে ‘ভোট স্যুইং’ হয়েছে। বিজেপির মূল লক্ষ্য হলো, তৃণমূলের এই দুর্বল ক্যাটেগরির আসনগুলোতে থাবা বসানো এবং দোদুল্যমান ভোটারদের নিজেদের দিকে টানা।

ডেটা বলছে, তৃণমূলের প্রভাব নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষিণবঙ্গের দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেঙে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জয়যাত্রা বজায় রাখা। ২০২৬-এ শেষ হাসি কে হাসবে, তা নির্ভর করবে এই ‘দুর্বল’ ও ‘অতি দুর্বল’ আসনগুলোর ভাগ্য পরিবর্তনের ওপর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy