এক সময় মনে করা হতো স্থূলতা বা ওবেসিটি কেবল বড়দের সমস্যা। কিন্তু ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটির হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শৈশবের এই বাড়তি ওজন কেবল চেহারার পরিবর্তন নয়, বরং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো জটিল অসুখকে অকালেই ডেকে আনছে।
কেন আমাদের আদরের ছোটমণিরা ওবেসিটির শিকার হচ্ছে? আর এই বিপদে রাশ টানার উপায়ই বা কী? জেনে নিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
কেন বাড়ছে শিশুদের ওজন?
ডিজিটাল আসক্তি: খেলার মাঠের বদলে এখনকার শিশুদের বিকেল কাটে মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে। শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই ওবেসিটির প্রধান কারণ।
জাঙ্ক ফুডের দাপট: টিফিনে বা বিকেলের নাস্তায় চিপস, বার্গার, পিৎজা বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ের প্রতি আকর্ষণ শিশুদের শরীরে ক্ষতিকর ফ্যাট জমাচ্ছে।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব: পড়াশোনার চাপ বা দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাসের কারণে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক।
বিপদ এড়াতে এখনই যা করবেন:
১. প্রতিদিন ১ ঘণ্টা মাঠের খেলা:
সন্তানকে ঘরের ভেতর বন্দি না রেখে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা বাইরে দৌড়াদৌড়ি বা সাইক্লিং করার সুযোগ করে দিন। এটি ক্যালরি পোড়ানোর পাশাপাশি হাড় ও পেশি মজবুত করবে।
২. খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য:
প্যাকেটজাত খাবারের বদলে বাড়িতে তৈরি টাটকা খাবার দিন। প্রতিদিনের ডায়েটে রঙিন শাকসবজি ও অন্তত একটি করে ফল রাখুন। জল পানের অভ্যাস করান, কোল্ড ড্রিঙ্কস থেকে দূরে রাখুন।
৩. স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ:
খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভি দেখার অভ্যাস একদম বন্ধ করুন। স্ক্রিনের সামনে বসে খেলে শিশুরা বুঝতে পারে না তারা কতটা খাচ্ছে, যার ফলে ‘ওভার ইটিং’ হয়।
৪. পরিবারই প্রথম পাঠশালা:
সন্তানকে সুস্থ রাখতে হলে বাবা-মাকেও সক্রিয় হতে হবে। নিজেরা স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং সন্তানের সাথে যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন। মনে রাখবেন, আপনাকে দেখেই সে শিখবে।