বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই তপ্ত হয়ে উঠল তৃণমূলের অন্দরমহল। মঙ্গলবার ২৯১টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ৪ মন্ত্রীসহ ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে এবারের তালিকায় রাখা হয়নি। পরিবর্তে ১৪১ জন নতুন মুখকে জায়গা দিয়ে একরাশ তারুণ্যের ওপর ভরসা রেখেছে জোড়াফুল শিবির। তবে এই তালিকার পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কান্নার সুর ও ক্ষোভের আগুন ঝরছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাজগঞ্জ থেকে। চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায় টিকিট না পেয়ে দলের চেয়ারম্যান পদ ত্যাগ করেছেন। তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম। কোনো নেতা হয়তো মোটা টাকা দিয়েছে।” এবার তাঁর জায়গায় স্বপ্না বর্মনকে প্রার্থী করেছে দল। খগেশ্বরের দাবি, রাজগঞ্জে তৃণমূলের হার নিশ্চিত। একই ছবি কোচবিহারে। নাটাবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্য সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ টিকিট না পেয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছেন এবং রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারও প্রকাশ্যেই উগরে দিয়েছেন অভিমান।
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বয়সের কারণে বা শারীরিক অসুস্থতার জন্য যাঁদের টিকিট দেওয়া যায়নি, তাঁদের কাউন্সিলে বা সংগঠনের বড় পদে রাখা হবে। কিন্তু নেত্রীর বার্তার পরেও জেলায় জেলায় বিধায়কদের অনুগামীদের বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। টিকিট না পাওয়া ক্ষুব্ধ নেতারা এখন কোন পথে পা বাড়ান, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।