সামান্য জ্বর বা সর্দি-কাশি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা এখন ঘরে ঘরে। কিন্তু এই অভ্যাসই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হলেও, ভাইরাসের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সম্প্রতি ‘অ্যাজিলাস ডায়াগনস্টিকস’-এর মাইক্রোবায়োলজি বিশেষজ্ঞ রভনীত কৌর এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্টভাবে ব্যাকটেরিয়ার কোষ বা ডিএনএ-কে লক্ষ্য করে কাজ করে। চিকিৎসকরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (কোর্স) জন্য এই ওষুধ দেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, দু-তিন দিন ওষুধ খাওয়ার পর শরীর একটু সুস্থ মনে হলেই রোগীরা কোর্স শেষ না করে ওষুধ বন্ধ করে দেন। আর এখানেই ঘনিয়ে আসে বিপদ।
রভনীত কৌর জানাচ্ছেন, কোর্স সম্পূর্ণ না করলে শরীরের ভেতরের সব ব্যাকটেরিয়া মরে না। বেঁচে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়া নিজেদের চরিত্র বদলে (মিউট্যান্ট) আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই ‘ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট’ ব্যাকটেরিয়াগুলো পরবর্তীতে যখন আবার আক্রমণ করে, তখন সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো কাজ করে না। ফলে রোগ সারানো অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। মনে রাখবেন, সর্দি-কাশির মতো ভাইরাল রোগে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। তাই সুস্থ থাকতে চিকিৎসকের দেওয়া কোর্স মাঝপথে কখনওই থামাবেন না।