মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল ভারতের দালাল স্ট্রিটে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা কেন ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে, তার নেপথ্যে রয়েছে এক জটিল অর্থনৈতিক সমীকরণ।
ইরান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ। যুদ্ধের জেরে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলার থেকে লাফিয়ে ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮০ শতাংশই আমদানি করে। ফলে চড়া দামে তেল কিনতে গিয়ে রাজকোষের বিদেশি মুদ্রা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টাকার মূল্যের ওপর। ডলারের তুলনায় টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘সাপ্লাই শক’। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন থেকে উৎপাদন—সবকিছুর খরচ বেড়ে যায়, যার ফলে কোম্পানিগুলোর মুনাফায় টান পড়ে। এই অনিশ্চয়তার জেরে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) তড়িঘড়ি শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত সোনায়। এই ‘ক্যাপিটাল ফ্লাইট’ বা পুঁজি পলায়নের কারণেই ধস নামছে শেয়ার বাজারে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।