দূর দেশের যুদ্ধের আঁচ এবার বাঙালির আবেগের জায়গায়। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কট এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল বাংলার জাগ্রত তীর্থস্থানগুলোতে। তারাপীঠ থেকে দিঘার জগন্নাথ মন্দির— সর্বত্রই LPG সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতি। ফলে হাজার হাজার ভক্তের অন্নপ্রসাদ বা ‘ভাণ্ডারা’ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
তারাপীঠে ভক্তদের পাতে টান
প্রতিদিন কয়েক হাজার ভক্ত মায়ের ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করেন তারাপীঠে। কিন্তু রান্নার গ্যাসের অভাবে এখন সেই পরিষেবায় বড়সড় কোপ পড়েছে। মন্দিরের সেবাইত সজল কুমার ভট্টাচার্য (মিলন পাণ্ডা) জানিয়েছেন, মূলত গ্যাসেই ভাণ্ডারার রান্না হয়। কিন্তু সিলিন্ডার বুক করেও সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে:
-
যেখানে প্রতিদিন ৫০০ ভক্তের রান্না হতো, তা কমিয়ে এখন ২০০-২৫০ করা হয়েছে।
-
গত বুধবার গ্যাসের অভাবে ভাণ্ডারা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ।
-
মায়ের মূল ভোগ উনুনে হলেও, সাধারণ ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরেও হাহাকার
সঙ্কট থেকে বাদ নেই দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরও। ইসকন (ISKCON) কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস জানিয়েছেন, দিঘায় আগে ৩ হাজার ভক্তের প্রসাদ রান্না হতো, যা এখন কমিয়ে মাত্র ৭৫০ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ইসকন কর্তৃপক্ষ। কলকাতার ইসকন মন্দিরেও সন্ন্যাসীদের জন্য কেবল খিচুড়ি রান্না হচ্ছে, কারণ স্টকে রয়েছে মাত্র ২ দিনের গ্যাস।
“আমাদের লক্ষ্য কেউ যেন খালি পেটে না ফেরে, কিন্তু গ্যাসের যা জোগান, তাতে প্রসাদ বিতরণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।” — রাধারমন দাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইসকন কলকাতা।
অন্যান্য মন্দিরের চিত্র
তবে স্বস্তির খবর এই যে, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে এখনও পর্যন্ত গ্যাসের এই সঙ্কটের তেমন কোনও বড় প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন সেক্রেটারি কুশল চৌধুরী। অন্যদিকে, ডেকার্স লেনের মতো কলকাতার বিখ্যাত খাবারের গলিগুলোতেও মেনু বদলে যাচ্ছে গ্যাসের আকালে। মাছ-ভাতের মতো সাধারণ পদ থাকলেও বন্ধ হচ্ছে পোলাও-চিকেন কষার মতো সময়সাপেক্ষ রান্না।
কেন এই সঙ্কট?
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও কালোবাজারি রুখতে নবান্ন কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও।