বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিয়েছেন রবীন্দ্রনারায়ণ রবি (R.N. Ravi)। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার সকালে লোকভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি এই বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে রাজ্যপালের কাছে একগুচ্ছ নালিশ জানিয়েছেন তিনি।
উপহারে বাঙালিয়ানা ও আধ্যাত্মিকতা
এদিন সকালে শুভেন্দু অধিকারী যখন লোকভবনে পৌঁছান, তাঁর হাতে ছিল:
-
গেরুয়া গোলাপ ও উত্তরীয়: নতুন রাজ্যপালকে স্বাগত জানাতে।
-
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: উপহার হিসেবে তুলে দেন তাঁর হাতে।
রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল লঙ্ঘন: বড় অভিযোগ শুভেন্দুর
প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু সরাসরি তোপ দাগেন রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাঁর মূল অভিযোগগুলি হলো:
-
রাষ্ট্রপতিকে অপমান: গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে আসা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জন্য নির্ধারিত সরকারি ‘প্রোটোকল’ পশ্চিমবঙ্গ সরকার যথাযথভাবে মানেনি।
-
আমলাদের বিরুদ্ধে নালিশ: রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে নিরাপত্তাজনিত অব্যবস্থা এবং অনুষ্ঠানস্থল বদল নিয়ে প্রশাসনের দুই শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু।
-
গণতন্ত্রের সংকট: শুভেন্দুর দাবি, বর্তমানে রাজ্যে গণতন্ত্র ও সংবিধান বিপন্ন। এই বিষয়ে তিনি রাজ্যপালের বিশেষ হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
প্রেক্ষাপট: রাষ্ট্রপতির শিলিগুড়ি সফর
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাষ্ট্রপতি নিজেই নিরাপত্তা ও অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। বিধাননগরের পরিবর্তে প্রথমে গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, নিরাপত্তার সবটাই কেন্দ্রীয় এজেন্সির নির্দেশ মেনে করা হয়েছিল।
নতুন রাজ্যপাল ও আগামীর ইঙ্গিত
রবীন্দ্রনারায়ণ রবি এর আগে নাগাল্যান্ড ও তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। পোড়খাওয়া এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরোধী শিবিরের এই তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে ভোটের আগে রাজ্য ও রাজভবনের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।