“১ দিনেই উধাও ৬০০ লিটার তেল!”-রেকর্ড বিক্রি কেরোসিনের, গ্যাস সংকটে ফিরছে ‘উনুন যুগ’?

কলকাতায় রান্নার গ্যাসের সংকট এখন চরম পর্যায়ে। গত কয়েকদিন ধরে শহরজুড়ে এলপিজি সরবরাহে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিকল্প জ্বালানির বাজারে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, মধ্যবিত্ত বাঙালিকে এখন সিলিন্ডার ছেড়ে কেরোসিনের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

বেহালার দোকানে রেকর্ডের পাহাড়!

শহরের জ্বালানি সংকটের সবথেকে বড় ছবিটা ধরা পড়েছে বেহালার বুড়োশিবতলা এলাকায়। সেখানে প্রায় ৪০ বছরের পুরনো একটি কেরোসিন দোকানে বৃহস্পতিবার যা ঘটেছে, তা কার্যত নজিরবিহীন।

  • স্বাভাবিক বিক্রি: দিনে ৫০-৬০ লিটার।

  • বৃহস্পতিবারের বিক্রি: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ৬০০ লিটার!

  • আর্তনাদ: মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ গ্রাহককে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। দোকানির দাবি, আরও দুই ব্যারেল তেল থাকলেও মুহূর্তে শেষ হয়ে যেত।

কেন এই ‘কেরোসিন বিপ্লব’?

গত কয়েক বছর ধরে কেরোসিনের চাহিদা তলানিতে ঠেকেছিল। কিন্তু গত ১১ মার্চ থেকে কলকাতায় এলপিজি-র যে হাহাকার শুরু হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই পুরনো অভ্যাসে ফিরছেন। বর্তমানে কলকাতায় কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার প্রায় ৬৪.২০ টাকা। রান্নার গ্যাস না মেলায় অনেকেই সস্তায় এই বিকল্প জ্বালানিকেই বেছে নিচ্ছেন।

সংকটের মূলে আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের শিকড় অনেক গভীরে।

  • ভূ-রাজনীতি: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।

  • সরকারি নির্দেশিকা: গত ১০ মার্চ কেন্দ্র বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই গৃহস্থালি গ্যাসেও টান পড়েছে।

  • আতঙ্ক: হেল্পলাইন নম্বর কাজ না করায় এবং রেশনিং চালুর আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ শুরু হয়েছে।

বিকল্পের খোঁজে কলকাতা

গ্যাস নেই, কেরোসিনও অমিল— এই অবস্থায় শহরবাসী এখন ছুটছেন ইলেকট্রনিক্স দোকানের দিকে। বাজারে হঠাৎ করেই ইন্ডাকশন কুকটপ ও রাইস কুকারের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। অনেক দোকানেই স্টক শেষ। সব মিলিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে কলকাতার হেঁশেল এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy