“হরমুজ প্রণালী নিয়ে আর ভয় নেই!”-জ্বালানি সংকটে বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ মোদী সরকারের?

ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার ত্রিমুখী সংঘর্ষে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য। বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম হু হু করে বাড়লেও ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য রয়েছে স্বস্তির খবর। যুদ্ধের মেঘ ঘনালেও আপাতত দেশীয় বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রে খবর, জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের আঁচ যাতে সাধারণ মানুষের পকেটে না লাগে, তার জন্য সবরকম প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে দিল্লি।

হরমুজ প্রণালীর বিকল্প ও ভারতের সাফল্য: বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তবে ভারত এবার আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। আগে ভারতের আমদানিকৃত জ্বালানির ৬০% আসত এমন উৎস থেকে যা হরমুজ রুটের ওপর নির্ভরশীল নয়। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতায় সেই পরিমাণ বাড়িয়ে এখন ৭০% করা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি আমদানির জন্য বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করেছে ভারত, যার ফলে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাব সরাসরি ভারতের পাম্পগুলোতে পড়ছে না।

সরকারের বিশেষ কর্মসূচি: সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যেই ‘ফুয়েল সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট চেইন প্রোগ্রাম’ সক্রিয় করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি মজুত রয়েছে যা দিয়ে কয়েক সপ্তাহ নির্বিঘ্নে সরবরাহ চালানো সম্ভব। এছাড়া রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৫০% বাড়ানো হয়েছে, যা সৌদি আরব বা ইরাকের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করছে।

কলকাতায় আজকের রেট: আজ, ১২ মার্চ ২০২৬ (বৃহস্পতিবার), তিলোত্তমায় জ্বালানির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি:

  • পেট্রোল: ১০৫.৪১ টাকা/লিটার

  • ডিজেল: ৯২.০২ টাকা/লিটার

  • পাওয়ার পেট্রোল: ১১২.৮৬ টাকা/লিটার

সরকারের এই কৌশলী পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের সাধারণ মানুষকে এখনই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy