মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিল। পারস্য উপসাগরে আমেরিকার দুটি বিশালাকার তেল ট্যাঙ্কারে ইরানের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক। ইরাকের আল ফাও বন্দরের কাছে এই বিধ্বংসী হামলায় ‘সেফসি বিষ্ণু’ এবং ‘জেফাইরোস’ নামে দুটি জাহাজ অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের ১৩তম দিনে এই ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
কিভাবে চলল হামলা? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ইরান এই হামলায় অত্যাধুনিক ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ অথবা বিস্ফোরক বোঝাই ছোট দ্রুতগামী নৌকা ব্যবহার করেছে। বিস্ফোরক ভর্তি নৌকাগুলি সজোরে মার্কিন মালিকানাধীন ট্যাঙ্কারে ধাক্কা মারতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আকাশছোঁয়া কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং সমুদ্রের জলে ছড়িয়ে পড়া তেলের ওপর দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান: আক্রান্ত দুটি ট্যাঙ্কারে প্রায় ৪ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। ‘সেফসি বিষ্ণু’ জাহাজটি আমেরিকার ‘সেফেসিয়া ট্রান্সপোর্ট’ কোম্পানির মালিকানাধীন হলেও সেখানে কর্মরত ছিলেন বহু ভারতীয়। জ্বলন্ত ভেসেল থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এক ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অন্য জাহাজ ‘জেফাইরোস’ গ্রিসের একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল।
উদ্বেগে দিল্লি: এই নিয়ে গত কয়েকদিনে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ৪ জন ভারতীয় নাবিকের প্রাণ গেল। এর আগে ১ এবং ২ মার্চ ওমান উপকূলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও তিন ভারতীয় নিহত হয়েছিলেন। বর্তমানে ২০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিক আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
বারবার ভারতীয়দের এই প্রাণহানি নয়াদিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার পরবর্তী কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।