মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে ভারতের একচ্ছত্র কূটনৈতিক জয়! ইরান যুদ্ধের জেরে যেখানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, সেখানে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের এক ফোনেই মিলল বড় সমাধান। তেহরানের বিশেষ অনুমতি নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক জলপথ হরমুজ প্রণালী পার করে নিরাপদে ভারতের জলসীমায় ঢুকে পড়ল বিশাল তেলের জাহাজ।
মুম্বইয়ে পৌঁছল ১.৩৫ লক্ষ টন তেল: বুধবার সন্ধ্যায় মুম্বই বন্দরে নোঙর করেছে লিবিয়ার পতাকা লাগানো সুবিশাল জাহাজ ‘শেনলং সেুয়েজ়ম্যাক্স’। গত ১ মার্চ সৌদি আরবের রাস টানুরা বন্দর থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল নিয়ে রওনা দিয়েছিল জাহাজটি। ভারতীয় ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে থাকা এই জাহাজটি ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে পৌঁছনোর পর সেটির সিগন্যাল হারিয়ে গিয়েছিল। ঘনিয়ে এসেছিল বিপদের মেঘ। কিন্তু জয়শঙ্কর ও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বৈঠকের পরই বদলে যায় চিত্রনাট্য।
ভারতের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’: ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কারগুলির যাতায়াতে তারা কোনো বাধা দেবে না। মুম্বই পোর্ট অথরিটির ডেপুটি কনজ়ারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ তেল দ্রুত মাহুলের রিফাইনারিতে পাঠানো হবে। কেবল এই জাহাজটিই নয়, হরমুজে আটকে থাকা ভারতের বাকি জাহাজগুলোকেও নিরাপদ পথ দেওয়ার (Safe Passage) গ্যারান্টি দিয়েছে তেহরান।
কেন এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ? বর্তমানে হরমুজ প্রণালী রুটে আমেরিকা বা ইউরোপের জাহাজগুলির প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ বা চূড়ান্ত বিপজ্জনক। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভারত যেভাবে ইরানের থেকে বিশেষ ছাড় আদায় করে নিল, তা বিশ্ব রাজনীতিতে দিল্লির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই প্রমাণ করে। দেশের জ্বালানি ভাণ্ডার নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা কাটাতে এই খবর যে বড় দাওয়াই, তা বলাই বাহুল্য।