শিশুর গলায় খাবার আটকে নীল হয়ে যাচ্ছে শরীর? আতঙ্কিত না হয়ে ১ মিনিটেই প্রাণ বাঁচান এই পদ্ধতিতে!

খাওয়ানোর সময় বা খেলার ছলে ছোট কোনো দানা বা খেলনা শিশুর শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ঘটনা। এই সময় মা-বাবারা ভয়ে চিৎকার শুরু করেন বা ভুল পদ্ধতিতে পিঠে থাপ্পড় মারেন, যা বিপদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ‘ফার্স্ট এইড’ বা প্রাথমিক চিকিৎসা জানলে মুহূর্তের মধ্যেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

শিশুর বয়স অনুযায়ী করণীয় (জীবনদায়ী পদ্ধতি):
১. শিশুর বয়স ১ বছরের কম হলে (Infant):
উল্টো করে ধরুন: শিশুকে আপনার এক হাতের ওপর উপুড় করে শুইয়ে দিন। লক্ষ্য রাখবেন তার মাথা যেন শরীরের চেয়ে নিচে থাকে এবং আপনার আঙুল দিয়ে তার চোয়াল ধরে রাখুন।

পিঠে চাপ (Back Slaps): আপনার অন্য হাতের তালুর গোঁড়া দিয়ে শিশুর দুই কাঁধের মাঝখানে ৫ বার হালকা অথচ জোরালো ধাক্কা বা চাপ দিন।

বুকের মাঝখানে চাপ (Chest Thrusts): যদি খাবার বের না হয়, তবে শিশুকে ঘুরিয়ে শুইয়ে বুকের মাঝখানে (দুই স্তনবৃন্তের ঠিক নিচে) দুই আঙুল দিয়ে ৫ বার চাপ দিন।

২. শিশুর বয়স ১ বছরের বেশি হলে (Heimlich Maneuver):
পেটে চাপ: শিশুর পেছনে হাঁটু গেড়ে বসুন। আপনার দু’হাত দিয়ে শিশুকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরুন।

ধাক্কা দিন: এক হাতের মুষ্টি অন্য হাত দিয়ে চেপে ধরে শিশুর নাভির ঠিক ওপরে এবং পাঁজরের নিচে রাখুন। এবার সজোরে ভেতর দিকে এবং ওপরের দিকে (J-আকৃতিতে) ধাক্কা দিন। যতক্ষণ না খাবারটি বেরিয়ে আসছে, এটি চালিয়ে যান।

ভুলেও যা করবেন না:
মুখে আঙুল ঢোকাবেন না: না দেখে শিশুর মুখে আঙুল দিয়ে খাবার বের করার চেষ্টা করবেন না। এতে খাবারটি আরও ভেতরে ঢুকে শ্বাসনালী পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।

উল্টো করে ঝুলিয়ে দেবেন না: শিশুকে পা ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে ঝাকুনি দিলে মাথায় চোট লাগার সম্ভাবনা থাকে।

সতর্ক সংকেত: কখন বুঝবেন অবস্থা গুরুতর?
যদি দেখেন শিশু কাশতে পারছে না, শব্দ করতে পারছে না, তার ঠোঁট বা মুখ নীল হয়ে যাচ্ছে এবং সে জ্ঞান হারাচ্ছে—তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন বা কাছের হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে নিয়ে যান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy