স্থূলতা মানেই আমরা ধরে নিই অতিরিক্ত খাওয়া বা শরীরচর্চার অভাব। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার বাড়ন্ত ওজনের চাবিকাঠি আসলে লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার মস্তিষ্কে? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, শরীর ও মনের ওজনের সম্পর্ক একমুখী নয়, বরং দ্বিমুখী। অর্থাৎ, মন খারাপ হলে যেমন ওজন বাড়তে পারে, তেমনই বাড়তি ওজন মনের অসুখকে উসকে দেয়।
স্ট্রেস হরমোন ও ‘ইমোশনাল ইটিং’: যখন আমরা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপে থাকি, শরীরে কর্টিসল (Cortisol) হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ তৈরি করে। একাকীত্ব, রাগ বা দুঃখ ভুলতে অনেকেই তখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন, যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ইমোশনাল ইটিং’।
বিষণ্নতা ও স্থূলতার দুষ্টচক্র: গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে ডিপ্রেশন বা উদ্বেগের ঝুঁকি অনেক বেশি। এর তিনটি প্রধান কারণ:
-
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: ডিপ্রেশন থাকলে ক্লান্তি ও অনিহার কারণে শরীরচর্চার উৎসাহ হারিয়ে যায়, ফলে ক্যালরি খরচ কমে মেদ জমে।
-
বডি শেমিং: বাড়তি ওজনের কারণে সমাজে কটূক্তি বা বৈষম্যের শিকার হওয়া আত্মসম্মান কমিয়ে দেয়। এতে মানুষ সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভোগে, যা ডিপ্রেশনকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
-
জেনেটিক্স ও ঘুম: হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ঘুমের অভাবও এই চক্রকে আরও জটিল করে তোলে।
সমাধান কেবল ডায়েট চার্টে নেই: শুধু জিম মেম্বারশিপ বা কঠোর ডায়েট অনেক সময় কাজ করে না যদি না মনের চিকিৎসা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন: ১. কাউন্সেলিং: ইমোশনাল ইটিং কমাতে ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি’ (CBT) অত্যন্ত কার্যকর। ২. আত্মবোঝাপড়া: ওজনের জন্য নিজেকে দোষারোপ না করে মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। ৩. ছোট পদক্ষেপ: একবারে বড় লক্ষ্য না রেখে প্রতিদিন অল্প করে হাঁটা বা নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস করুন। ৪. সামাজিক সমর্থন: পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলুন, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।
শেষ কথা: স্থূলতাকে কেবল ইচ্ছাশক্তির অভাব হিসেবে দেখা ভুল। শরীর ও মন একই মুদ্রার দুই পিঠ। তাই ওজন কমানোর লড়াইটা শুরু হোক মনের যত্ন দিয়ে। শরীর সুস্থ রাখতে মনের ওপর থেকে বোঝার ভার নামানো সবার আগে জরুরি।